আজকাল ওয়েবডেস্ক:  সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে। উপসাগরীয় দেশ  কুয়েত তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে “ফোর্স মেজর” ঘোষণা করেছে এবং সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে চলতি ইরান যুদ্ধ।


কুয়েতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পরিবহন সমস্যা বিবেচনা করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক হামলা এবং জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়ায় তেল রপ্তানি কাজে বিঘ্ন ঘটছে। তাই ঝুঁকি কমাতে উৎপাদন এবং রিফাইনিং কার্যক্রম কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছে। 


এই পরিস্থিতির অন্যতম বড় কারণ হল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ। ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি পরিবাহিত হয়। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, ফলে তেল রপ্তানি বড় ধরনের চাপে পড়েছে। 


কুয়েত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিদিন প্রায় ২৬ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছিল। যদিও এখন ঠিক কতটা উৎপাদন কমানো হয়েছে তা প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংস্থাটি জানিয়েছে এই পদক্ষেপ সাময়িক এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে উৎপাদন আবার বাড়ানো হতে পারে। 


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু কুয়েতের অর্থনীতিতেই নয়, বিশ্বের জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক বড় তেল উৎপাদক দেশ ইতিমধ্যেই উৎপাদন কমানোর কথা ভাবছে। ইরাক ও কাতারের মতো দেশেও রপ্তানি ও উৎপাদনে ব্যাঘাতের খবর সামনে এসেছে। 


বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যদি সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে সংযুক্ত আরব আমিরাত বা সৌদি আরবের মতো দেশগুলোকেও উৎপাদন কমাতে হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে এবং দাম দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। 


এদিকে বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পখাতে ব্যয় বাড়বে। ফলে অনেক দেশে আবারও মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে।

 


সব মিলিয়ে বলা যায়, এই সংঘাত এখন শুধু সামরিক বা রাজনৈতিক ইস্যু নয়—এটি দ্রুত বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। কুয়েতের উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত সেই সংকটেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত।