আজকাল ওয়েবডেস্ক: কর্নাটক সরকার মদের উপর নতুন কর কাঠামো চালু করেছে। অ্যালকোহল-ইন-বেভারেজ ভিত্তিক এই নতুন আবগারি শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে ১১ মে ২০২৬ থেকে। আবগারি দপ্তরের দাবি, ভারতে এই প্রথম কোনও রাজ্যে আন্তর্জাতিক মানের এই কর ব্যবস্থা চালু হল, যার লক্ষ্য মদের দামকে আরও যুক্তিসঙ্গত করা এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলির তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নিয়ে আসা।
মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ২০২৬-২৭ বাজেট ঘোষণার অংশ হিসেবেই এই নতুন নীতি কার্যকর করা হয়েছে। আবগারি দপ্তরের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন কর কাঠামোর ফলে গ্রাহকেরা তুলনামূলকভাবে কম দামে মদ কিনতে পারবেন এবং রাজ্যের বাজারে মূল্যবৈষম্যও কমবে।
কী এই AIB ভিত্তিক কর ব্যবস্থা?
অ্যালকোহল-ইন-বেভারেজ পদ্ধতিতে মূলত পানীয়ের মধ্যে থাকা অ্যালকোহলের পরিমাণ অনুযায়ী কর ধার্য করা হয়। অর্থাৎ, যে পানীয়ে যত বেশি অ্যালকোহল থাকবে, তার উপর করের পরিমাণও তত বেশি হবে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিকে মদে কর আরোপের অন্যতম স্বচ্ছ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে ধরা হয়।
কর্নাটক সরকার জানিয়েছে, এতদিন রাজ্য সরকার নির্দিষ্টভাবে বিভিন্ন মদের ব্র্যান্ডের দাম ঠিক করে দিত। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় সেই নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন কোন পণ্য কোন মূল্যের শ্রেণিতে পড়বে, তা বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী উৎপাদক সংস্থাগুলিই নির্ধারণ করবে।
কমল মদের স্ল্যাব সংখ্যা
৮ মে ২০২৬-এর সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান মেড লিকার স্ল্যাব সংখ্যা আগের ১৬ থেকে কমিয়ে ৮ করা হয়েছে। সরকারের মতে, এর ফলে কর কাঠামো সহজ হবে এবং বাজারে মূল্য নির্ধারণ আরও স্বচ্ছ হবে।
কোন কোন মদের দামে পরিবর্তন?
নতুন হারে জনপ্রিয় একাধিক ভারতীয় মদ এবং বিয়ার ব্র্যান্ডের দাম সংশোধন করা হয়েছে। দাম নির্ভর করবে মদের শ্রেণি, প্যাকেটের আকার এবং অ্যালকোহলের মাত্রার উপর। যদিও সরকার এখনও সব ব্র্যান্ডের পূর্ণাঙ্গ মূল্যতালিকা প্রকাশ করেনি, তবে বাজারে বেশ কিছু ব্র্যান্ডের দাম কমতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার একদিকে যেমন রাজস্ব বাড়াতে চাইছে, তেমনই প্রতিবেশী রাজ্যে মদ কিনতে যাওয়ার প্রবণতাও কমাতে চাইছে। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল, কর্নাটকে মদের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতা সীমান্তবর্তী রাজ্য থেকে মদ কিনতেন।
নতুন নীতি কার্যকর হওয়ার ফলে মদ শিল্পে প্রতিযোগিতা বাড়বে বলেও মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের জন্য দাম কিছুটা কমতে পারে, যা বাজারে বিক্রি বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে।















