কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বহু প্রতীক্ষিত অষ্টম বেতন কমিশনের কাজ এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশজুড়ে কর্মী সংগঠন, পেনশনভোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেছে কমিশন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, বেতন বৃদ্ধি, ডিএ সংশোধন, পেনশন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং বিভিন্ন ভাতার কাঠামো।
2
11
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে গঠিত অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশে প্রভাব পড়তে পারে প্রায় ১.১ কোটি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীর উপর। ফলে কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন সরকারি কর্মীরা।
3
11
বর্তমানে সপ্তম বেতন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৫৭। তবে একাধিক কর্মী সংগঠন অষ্টম বেতন কমিশনের অধীনে তা বাড়িয়ে ৩.৮৩৩ করার দাবি তুলেছে। ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বাড়লে কর্মচারীদের ন্যূনতম বেসিক বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
4
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ন্যূনতম বেতন বর্তমানের তুলনায় অনেকটাই বাড়তে পারে। মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে কর্মী সংগঠনগুলি এই দাবি তুলেছে।
5
11
বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার ৩ শতাংশ। কিন্তু বিভিন্ন সংগঠন তা বাড়িয়ে ৫ থেকে ৬ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি হাউস রেন্ট অ্যালাউন্স, ট্রাভেল অ্যালাউন্স এবং অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধির দাবিও উঠেছে।
6
11
কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতিতে পুরনো ভাতা কাঠামো বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই মূল্যস্ফীতির সঙ্গে যুক্ত নতুন ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
7
11
পেনশনভোগীদের জন্যও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি কমিশনের সামনে এসেছে। বিভিন্ন সংগঠন পেনশন সমতা, মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সংযুক্ত পেনশন কাঠামো এবং ডিএ গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তনের দাবি তুলেছে। ভবিষ্যতে ডিএ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছ ও স্থায়ী ব্যবস্থা চায় কর্মচারী সংগঠনগুলি।
8
11
ইতিমধ্যেই তিনটি বড় সংগঠন কমিশনের কাছে বিস্তারিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল কাউন্সিল জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি, মহারাষ্ট্র ওল্ড পেনশন অর্গানাইজেশন এবং অল ইন্ডিয়া ডিফেন্স এমপ্লয়িজ ফেডারেশন। এই সংগঠনগুলি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী, প্রতিরক্ষা কর্মী ও পেনশনভোগীদের প্রতিনিধিত্ব করে।
9
11
কমিশন ইতিমধ্যেই দিল্লিতে প্রতিরক্ষা ও রেল কর্মী সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠক করেছে। এছাড়া তেলেঙ্গানা, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখে আঞ্চলিক বৈঠকের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে আরও বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আলোচনা হবে।
10
11
এদিকে সুপারিশ জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে কর্মী সংগঠনগুলি আরও বিস্তারিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
11
11
১ জানুয়ারি ২০২৬-কে নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকর হওয়ার সম্ভাব্য ভিত্তি তারিখ হিসেবে ধরা হয়েছে। তবে কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে প্রায় ১৮ মাস সময় লাগতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। সরকার অনুমোদন দিলে পরে বকেয়া অর্থ বা এরিয়ারও দেওয়া হতে পারে।