আজকাল ওয়েবডেস্ক: জ্বালানি খরচ কমানো এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে বড় সিদ্ধান্ত নিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। রাজ্যের বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান ও অফিসগুলিতে সপ্তাহে দু’দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজের নীতি চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অফিসে আলাদা শিফটে কাজের সময় নির্ধারণ এবং গণপরিবহণ ব্যবহারে জোর দেওয়া হবে।
রবিবার শ্রম দফতরের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা সামনে আসে। বিশেষ করে নয়ডা, গাজিয়াবাদ এবং লখনউয়ের মতো তথ্যপ্রযুক্তি ও শিল্পাঞ্চলগুলিতে এই নীতি কার্যকর করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, প্রতিদিনের জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং শহরাঞ্চলের তীব্র যানজট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা।
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, সরকারি দফতরগুলিকেও ভার্চুয়াল বৈঠক ও অনলাইন ব্যবস্থার উপর বেশি নির্ভর করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে রাজ্য সচিবালয় এবং বিভিন্ন ডিরেক্টরেটের অর্ধেক অভ্যন্তরীণ বৈঠক অনলাইনে করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কর্মশালা, সেমিনার ও অফিসিয়াল মিটিংও যতটা সম্ভব ভার্চুয়াল মাধ্যমে করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
এছাড়াও সরকার কারপুলিং, মেট্রো এবং বাস পরিষেবা ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। সরকারের মতে, ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমলে শুধু জ্বালানি সাশ্রয়ই নয়, দূষণও কমবে।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ মন্ত্রীদের গাড়িবহরের আকার ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাশ্রয়মূলক আহ্বানের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
১০ মে হায়দরাবাদে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর কাছে জ্বালানি ব্যবহার কমানোর আবেদন জানান। তিনি বলেন, “যেখানে মেট্রো রয়েছে সেখানে মেট্রো ব্যবহার করুন। যাতায়াতের জন্য কারপুলিং করুন এবং পণ্য পরিবহণে রেল ব্যবহার করুন। এতে পেট্রোল-ডিজেলের উপর নির্ভরতা কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপও হ্রাস পাবে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, করোনা মহামারির সময় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’, ভিডিও কনফারেন্সিং ও ভার্চুয়াল মিটিংয়ের যে অভ্যাস তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে আবার সেই পদ্ধতিগুলিকে গুরুত্ব দেওয়ার সময় এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরপ্রদেশ সরকারের এই পদক্ষেপ সফল হলে অন্যান্য রাজ্যও একই ধরনের নীতি গ্রহণ করতে পারে। কারণ একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে শহরাঞ্চলে যানজট ও দূষণও বড় সমস্যা হয়ে উঠছে। করোনা পরবর্তী সময়ে অনেক সংস্থা আবার পুরোপুরি অফিসমুখী হলেও, নতুন এই উদ্যোগের ফলে ফের হাইব্রিড কাজের সংস্কৃতি জোরদার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।















