আজকাল ওয়েবডেস্ক: পিপিএফ হল ভারত সরকারের একটি নির্ভরযোগ্য সঞ্চয় প্রকল্প। মানুষ দীর্ঘ মেয়াদের জন্য এতে বিনিয়োগ করতে পারেন। পিপিএফ প্রকল্পটি বিশেষভাবে তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যারা একটি সুরক্ষিত বিনিয়োগ চান যা ভালো রিটার্ন দেয়। একটি পিপিএফ অ্যাকাউন্ট ১৫ বছরে পরিপক্ক হয়। এরপর এটি ৫ বছরের ব্লকে বাড়ানো যেতে পারে। এই প্রকল্পে বার্ষিকভাবে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা জমা করা যায়। পিপিএফ অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৭,০০০ টাকা, ১১,০০০ টাকা বা ১২,০০০ টাকা বিনিয়োগ করলে, ১৫ বছর পর কত টাকা রিটার্ন মিলবে?
আপনি কোথায় একটি পিপিএফ অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন?
আপনি পোস্ট অফিস বা যেকোনও অনুমোদিত ব্যাঙ্কে একটি পিপিএফ অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। উভয় জায়গাতেই নিয়ম, সুদের হার এবং কর সুবিধা একই। একমাত্র পার্থক্য হল সুবিধা এবং সহজলভ্যতা। আপনার জন্য যেখানে সবচেয়ে সুবিধাজনক, সেখানেই আপনি একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন।
কারা পিপিএফ অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন?
ভারতে বসবাসকারী যেকোনও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিজের নামে একটি পিপিএফ অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। বাবা-মা বা আইনি অভিভাবকরা নাবালক সন্তান বা মানসিকভাবে অক্ষম ব্যক্তির নামে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, ব্যাঙ্কেই হোক বা পোস্ট অফিসে- একজন ব্যক্তির সারা দেশে নিজের নামে শুধুমাত্র একটি পিপিএফ অ্যাকাউন্ট থাকতে পারেন।
মেয়াদপূর্তির পর নিয়ম কী?
যখনপিপিএফ অ্যাকাউন্টের ১৫ বছর পূর্ণ হয়, তখন আপনি পোস্ট অফিস বা ব্যাঙ্কে আপনার পাসবুক এবং অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার ফর্ম জমা দিয়ে পুরো টাকা তুলে নিতে পারেন। আপনি চাইলে কোনও নতুন আমানত জমা না দিয়েও অ্যাকাউন্টটি সক্রিয় রাখতে পারেন। এই ক্ষেত্রে, প্রচলিত সুদের হারে সুদ জমা হতে থাকবে। এই সময়ের মধ্যে, আপনি বছরে একবার টাকা তুলতে পারেন বা যখন খুশি পুরো টাকা তুলে নিতে পারেন।
প্রতি মাসে ৭০০০ টাকা বিনিয়োগের উপর রিটার্ন:
আপনি যদি পিপিএফ-এ প্রতি মাসে ৭০০০ টাকা জমা করেন, তাহলে আপনার বার্ষিক বিনিয়োগ হবে ৮৪,০০০ টাকা। ১৫ বছরে, আপনার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ হবে ১২,৬০,০০০ টাকা। এর উপর অর্জিত আনুমানিক সুদ হতে পারে প্রায় ১০,১৮,১৯৭ টাকা। এর মানে হল, মেয়াদপূর্তিতে মোট পরিমাণ হতে পারে প্রায় ২২,৭৮,১৯৭ টাকা।
প্রতি মাসে ১১০০০ টাকার বিনিয়োগের উপর রিটার্ন:
প্রতি মাসে ১১০০০ টাকা জমা দিলে বছরে বিনিয়োগ হবে ১,৩২,০০ টাকা। ১৫ বছরে মোট বিনিয়োগ হবে ১৯,৮০,০০০ টাকা। অর্জিত আনুমানিক সুদ হতে পারে প্রায় ১৬,০০,০২৪। সুতরাং, মেয়াদপূর্তিতে মোট পরিমাণ হতে পারে প্রায় ৩৫,৮০,০২৪ টাকা।
প্রতি মাসে ১২০০০ টাকার বিনিয়োগের উপর রিটার্ন:
আপনি যদি প্রতি মাসে ১২০০০ টাকা বিনিয়োগ করেন, তাহলে এক বছরে আপনি ১,৪৪,০০০ টাকা জমা দেবেন। ১৫ বছরে আপনার মোট বিনিয়োগ হবে ২১,৬০,০০০ টাকা। এর উপর অর্জিত আনুমানিক সুদ হতে পারে প্রায় ১৭,৪৫,৪৮১ টাকা। অতএব, মেয়াদপূর্তিতে মোট পরিমাণ হতে পারে প্রায় ৩৯,০৫,৪৮১ টাকা।
