আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানে ইজরায়েল-মার্কিন হামলার পর অশান্ত মধ্য এশিয়া। যার আঁচ পড়ল ভারতের বাসমতি চালে! ধুঁকছে হরিয়ানার বাসমতি চালকলগুলো। চাপে পড়েছেন চাল রপ্তানিকারকরা। ইরানের জন্য নির্ধারিত প্রায় ১.৫ লক্ষ মেট্রিক টন বাসমতি চাল প্রবল অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে আছে।

হঠাৎ রপ্তানি বন্ধ, দাম কমেছে
বিমান হামলার পর, দেশীয় বাজারে বাসমতির দাম প্রতি টন ৪০০-৫০০ টাকা কমেছে - গত মাসে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংস্থা, গভর্নমেন্ট ট্রেডিং কর্পোরেশন অফ ইরান (জিটিসি) এর সঙ্গে একটি বড় চুক্তির পর এটা একটি বিরাট পরিবর্তন। চুক্তির আওতায়, ভারত- ইরানে প্রায় ১.৫ লক্ষ মেট্রিক টন বাসমতি চাল রপ্তানি করার কথা ছিল। এই ঘোষণার ফলে প্রতি কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা দাম বেড়েছিল। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সেই প্রবণতাকে উল্টে দিয়েছে, বাজারকে আবার মন্দা!

হরিয়ানার ৪০ শতাংশ শেয়ার ঝুঁকির মুখে
ভারতের মোট বাসমতি চাল রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশ হরিয়ানা থেকে আসে। কৈথাল, কর্ণাল এবং কুরুক্ষেত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলি উচ্চমানের বাসমতি চালের উৎপাদন হয়।

ভারতের হরিয়ানা জেলার বাসমতি চালের বৃহৎ ক্রেতাদের তালিকায় রয়েছে- ইরান, ইরাক এবং সৌদি আরব। অন্যদিকে এই চাল ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশেও রপ্তানি করা হয়। ইরান বাসমতি রপ্তানিকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হওয়ায় বাণিজ্যে যেকোনও ব্যাঘাত রাজ্যের চাল অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব ফেলে।

হরমুজ প্রণালী বন্ধের জের
রপ্তানিকারকরা বলছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালী। যা ইরান বর্তমানে বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে রপ্তানী বন্ধ। 

কৈথাল-ভিত্তিক চাল রপ্তানিকারক নরেন্দ্র মিগলানি, যাঁর পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই ব্যবসায় রয়েছে, তিনি বলেছেন যে- প্রায় ২ থেকে ২.৫ লক্ষ মেট্রিক টন চাল রপ্তানির জন্য নির্ধারিত ছিল, যার মধ্যে ইরানের জন্য নির্ধারিত প্রায় ১.৫ লক্ষ মেট্রিক টন রয়েছে। তাঁর কথায় বেশিরভাগ জাহাজই বন্দরে পৌঁছেছে অথবা ক্লিয়ারেন্সের অপেক্ষায় রয়েছে - কিন্তু জাহাজগুলো এগোচ্ছে না।

ইরানে নওরোজের চাহিদার কারণে জরুরি অবস্থা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে, যার ফলে রপ্তানিকারকরা দ্রুত চালান পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন। তবে, পণ্য এখন আটকে আছে।

কোনও বিমা নেই, ঝুঁকিতে রপ্তানিকারকরা
মিগলানির মতে, যুদ্ধের জেরে পণ্য নষ্ট হলে তার বিমা কবার মিলবে না। ফলে রপ্তানিকারকদের সম্পূর্ণ আর্থিক ঝুঁকি বহন করতে হবে। অর্থ প্রদান আটকে থাকা এবং পণ্য আটকে থাকার কারণে চাপ বাড়ছে।

রপ্তানিকারকরা এখন সরকারকে হস্তক্ষেপ এবং সহায়তা প্রদানের জন্য অনুরোধ করছেন, বিশেষ করে বন্দরে আটকে থাকা চালানগুলোর।

সামনে কী অপেক্ষা করছে?
যদি উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায় এবং আঞ্চলিক অশান্তি অব্যাহত থাকে, তাহলে ভারতের বাসমতি বাণিজ্য আরও গভীর বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী ব্যাঘাতের ফলে দাম আরও কমে যেতে পারে, রপ্তানিকারকদের জন্য আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে এবং কৃষক এবং মিল কর্তপক্ষ উভয়ের জন্য সম্ভাব্য ক্ষতি হতে পারে।

আপাতত, হরিয়ানা বাসমতি রপ্তানিকারক ও মিল মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।