আজকাল ওয়েবডেস্ক: তিন অঙ্কের একটি সংখ্যা—কাগজে দেখলে তুচ্ছ মনে হতে পারে। কিন্তু কোটি কোটি ভারতীয়ের জীবনে এই সংখ্যাটিই নীরবে ঠিক করে দেয় তারা কত দূর এগোতে পারবেন। ঋণ মিলবে কি না, সুদের হার কত হবে, ব্যবসা শুরু করা যাবে কি না—সব কিছুর কেন্দ্রে থাকে সেই ক্রেডিট স্কোর। ভারত ইতিমধ্যেই ডিজিটাল পরিচয়ের জন্য আধার এবং ডিজিটাল পেমেন্টের জন্য ইউপিআই গড়ে বিশ্বকে পথ দেখিয়েছে। তাহলে কি এবার সময় এসেছে ক্রেডিট কাঠামোকেও একই স্বচ্ছতা ও নাগরিক-নিয়ন্ত্রণের কাঠামোয় আনার?


বর্তমানে ভারতে ক্রেডিট স্কোরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পরিচিত নাম সিবিল স্কোর। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি এই স্কোরের ওপর নির্ভর করে ঋণ অনুমোদন করে। কিন্তু অধিকাংশ নাগরিক জানেন না তাঁদের স্কোর কীভাবে গণনা হয়, কোথায় ভুল থাকতে পারে, বা কীভাবে দ্রুত তা সংশোধন করবেন। তথ্যের এই অস্বচ্ছতা অনেক সময় প্রথম প্রজন্মের ঋণগ্রহীতা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করা মানুষদের পিছিয়ে দেয়।


ভারত যেভাবে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরি করেছে, তাতে একটি ‘ইন্ডিয়ান সিবিল’—অর্থাৎ আরও উন্মুক্ত, প্রতিযোগিতামূলক ও নাগরিক-কেন্দ্রিক ক্রেডিট ইকোসিস্টেম—গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে বেসরকারি সংস্থাকে সরিয়ে দেওয়া; বরং তথ্যের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নাগরিকের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া। যেমন আরবিআই আর্থিক ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে, তেমনি একটি মানসম্মত, স্বচ্ছ কাঠামো তৈরি করতে পারে যেখানে প্রত্যেকে সহজে নিজের ক্রেডিট তথ্য দেখতে, বুঝতে ও সংশোধন করতে পারবেন।


ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তার, ক্ষুদ্র ঋণ প্ল্যাটফর্মের উত্থান এবং ফিনটেক উদ্ভাবনের যুগে ক্রেডিট ডেটা শুধু ব্যাংকের সম্পদ নয়—এটি নাগরিকের অর্থনৈতিক পরিচয়ের অংশ। যদি আধার পরিচয় দেয় ‘আমি কে’, ইউপিআই দেখায় ‘আমি কীভাবে লেনদেন করি’, তবে একটি আধুনিক ক্রেডিট কাঠামো জানাবে ‘আমি কতটা বিশ্বাসযোগ্য ঋণগ্রহীতা’। এই তিন স্তম্ভ একসঙ্গে কাজ করলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও গভীর হবে।


প্রশ্ন তাই একটাই: ভারত কি ক্রেডিটকে একই স্বচ্ছতা, গতিশীলতা ও নাগরিক ক্ষমতায়নের মানদণ্ডে আনতে প্রস্তুত? তিন অঙ্কের সেই সংখ্যা যদি মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে, তবে তার উপর আলোর পরিমাণও সমান হওয়া উচিত।