আজকাল ওয়েবডেস্ক:  কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য আসন্ন অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রিপোর্টে ইঙ্গিত মিলছে, নতুন পে কমিশনে ন্যূনতম বেতন প্রায় ৬৬% পর্যন্ত বাড়তে পারে। বর্তমানে সপ্তম বেতন কমিশন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের ন্যূনতম বেতন ১৮,০০০ টাকা। যদি সম্ভাব্য বৃদ্ধি কার্যকর হয়, তাহলে তা বেড়ে প্রায় ৩০,০০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। যদিও সরকারিভাবে এখনও কোনও ঘোষণা করা হয়নি, তবুও কর্মচারী মহলে আশার সঞ্চার হয়েছে।


বর্তমানে বেতন নির্ধারণের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশের ওপর। সেই সময় ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ ২.৫৭ গুণ ধরা হয়েছিল। এর ফলে ৭,০০০ টাকার বেসিক পে বেড়ে ১৮,০০০ টাকায় নির্ধারিত হয়। এবার অষ্টম বেতন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ৩.৬৮ বা তারও বেশি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন। সেই হিসাবেই ন্যূনতম বেতনে বড়সড় লাফের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


আইক্রড ফর্মুলা মূলত ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, যা একজন কর্মচারী ও তার পরিবারের ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে তৈরি করা হয়। এই সূত্র অনুযায়ী, একজন শ্রমিকের পরিবারের জন্য দৈনিক ক্যালোরির চাহিদা, পোশাক, বাসস্থান, জ্বালানি, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচকে হিসাবের মধ্যে ধরা হয়।


ভারতে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে এই সূত্রের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। পরবর্তীকালে ১৫ তম ভারতীয় লেবান কনফারেন্সের সুপারিশে পরিবারের গড় সদস্য সংখ্যা তিন ধরা হয় এবং খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের পাশাপাশি অন্যান্য খরচ যোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে বেতন কাঠামো আরও বাস্তবসম্মত হয়।


বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি অষ্টম বেতন কমিশনে এই ফর্মুলার আধুনিক সংস্করণ প্রয়োগ করা হয় এবং বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করা হয়, তাহলে ন্যূনতম বেতনে ৬০-৬৬% পর্যন্ত বৃদ্ধি অস্বাভাবিক নয়। এতে শুধু কর্মচারীরাই নন, পেনশনভোগীরাও উপকৃত হবেন, কারণ তাদের পেনশনও বেসিক পের ওপর নির্ভরশীল।

 


তবে সবটাই এখনো সম্ভাবনার স্তরে। সরকার কবে অষ্টম বেতন কমিশন গঠন করবে এবং কী সুপারিশ কার্যকর হবে, তা সময়ই বলবে। কিন্তু একথা স্পষ্ট, মূল্যবৃদ্ধির চাপে কর্মচারীদের স্বস্তি দিতে বড়সড় পরিবর্তনের দাবি জোরালো হচ্ছে।