আজকাল ওয়েবডেস্ক:  ভারত ও ইরানের মধ্যে তেল বাণিজ্যে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সরকারি সূত্রের দাবি, ভারত এখন ধীরে ধীরে ইরানের কাছ থেকে আমদানি করা তেলের মূল্য মার্কিন ডলারের বদলে ভারতীয় টাকায় মেটানোর দিকে এগোচ্ছে। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে ডলারের উপর নির্ভরতা কমবে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই টাকা ভিত্তিক লেনদেন পদ্ধতি ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পশ্চিমের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সঙ্গে সরাসরি ডলারে লেনদেন করা অনেক ক্ষেত্রেই জটিল হয়ে পড়ে। তাই বিকল্প হিসেবে টাকায় পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে, যা উভয় দেশের জন্যই সুবিধাজনক হতে পারে।


এই ব্যবস্থায় ইরান ভারতের কাছ থেকে যে টাকা পাবে, তা আবার ভারতীয় পণ্য ও পরিষেবা কেনার জন্য ব্যবহার করতে পারবে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অর্থ দিয়ে ইরান ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি করতে পারে—যেমন বাসমতী চাল, চা, ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য, টেক্সটাইল এবং অন্যান্য পরিষেবা। ফলে এটি একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চক্র তৈরি করবে, যেখানে উভয় দেশই লাভবান হবে।


এই উদ্যোগের ফলে ভারতের রপ্তানি খাতেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য ও ক্ষুদ্র শিল্পের পণ্যের চাহিদা বাড়তে পারে। একইসঙ্গে, বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় রক্ষা করতেও এই পদ্ধতি সহায়ক হতে পারে, কারণ ডলারের ব্যবহার কমবে।


তবে এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি নতুন নয়। অতীতেও ভারত ও ইরানের মধ্যে আংশিকভাবে টাকা-রিয়াল দিয়ে বাণিজ্য করেছে। কিন্তু বর্তমান বিশ্বের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই মডেল আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে বিকল্প লেনদেন পদ্ধতির গুরুত্ব বেড়েছে।


অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, যদি এই ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে সফল হয়, তাহলে এটি ভারতের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পাশাপাশি, অন্যান্য দেশগুলিও ভবিষ্যতে এমন বিকল্প মুদ্রা ব্যবস্থার দিকে আগ্রহী হতে পারে।

 

&t=546s
সব মিলিয়ে, ইরানের সঙ্গে টাকায় তেল লেনদেনের এই সম্ভাবনা শুধু দুই দেশের সম্পর্ককেই শক্তিশালী করবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের অবস্থানকেও আরও দৃঢ় করতে পারে। আগামী দিনে এই উদ্যোগ কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে অর্থনৈতিক মহলের।