আজকাল ওয়েবডেস্ক: এইচএসবিসি হোল্ডিংস পিএলসি (HSBC Holdings Plc) বড় আকারের কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জর্জেস এলহেদেরি যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-চালিত রূপান্তরের ওপর জোর দেওয়ার ফলেই, এই ছাঁটাই হতে পারে। আগামী কয়েক বছরে ২০,০০০ পর্যন্ত পদ প্রভাবিত হতে পারে।
ছাঁটাই হতে পারে - সংস্থার 'মিডল-অফিস' ও 'ব্যাক-অফিস' বা দাপ্তরিক সহায়তাকারী বিভাগগুলোতে। কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্বব্যাপী ব্যাঙ্কিং কার্যক্রমের রূপরেখা বদলে দিতে শুরু করছে এই ছাঁটাই তার ইঙ্গিত।
কারা প্রভাবিত হতে পারেন?
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব পদের কর্মীদের সরাসরি গ্রাহকদের মুখোমুখি হতে হয় না - বিশেষ করে এইচএসবিসি-র 'গ্লোবাল সার্ভিসেস'-এর একাধিক পদগুলোতে বেশি চাঁটাই হবে। তবে, এই পর্যালোচনা প্রক্রিয়াটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, পর্যালোচনার অধীনে থাকা কিছু পদের কাজ যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করা হবে, এমনটা নাও হতে পারে। কর্মী ছাঁটাইয়ের একটি অংশ হয়তো নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসা গুটিয়ে ফেলা বা অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার (divestment) মাধ্যমেও সম্পন্ন হতে পারে।
ব্লুমবার্গের উদ্ধৃত সূত্রগুলোর একটির মতে, সব মিলিয়ে এই পরিবর্তনের ফলে প্রায় ২০,০০০ কর্মী প্রভাবিত হতে পারেন - যা এইচএসবিসি-র বিশ্বব্যাপী মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ।
সময়সীমা এখনও অনিশ্চিত:
সম্ভাব্য এই কর্মী ছাঁটাই প্রক্রিয়াটি তিন থেকে পাঁচ বছরের একটি মধ্যমেয়াদী সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে; যদিও এ সংক্রান্ত আলোচনাগুলো এখনও প্রাথমিক পর্যায়েই রয়ে গিয়েছে।
২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এইচএসবিসি-র কর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২,১০,০০০।
ব্যয় সংকোচন ও পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা:
ব্যাঙ্কটি ইতিমধ্যেই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এলহেদেরির নেতৃত্বে একটি বড় ধরনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে; এলহেদেরি ২০২৪ সালে সিইও-র দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ব্যাঙ্কটি ইতিমধ্যে কর্মী ছাঁটাই করেছে, নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে কিংবা অন্য ব্যবসার সঙ্গে একীভূত করেছে এবং তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রমগুলোকে আরও সুবিন্যস্ত ও দক্ষ করে তুলেছে।
এইচএসবিসি সম্প্রতি জানিয়েছে যে, তারা তাদের ১.৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগেই অর্জন করতে পারবে বলে আশা করছে।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত এই পরিকল্পনাগুলো সম্পর্কে ব্যাঙ্কটি এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আগেই ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ আলোচনা শুরু হয়েছিল এবং সেই আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
এআই-চালিত কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রবণতা বাড়ছে:
এইচএসবিসি-র এই পদক্ষেপটি ব্যাঙ্কিং শিল্পের একটি বৃহত্তর প্রবণতারই অংশ, যেখানে ধারণা করা হচ্ছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যতে কর্মীবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা ও কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
গত বছর প্রকাশিত ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্সের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ব্যাঙ্কগুলো সম্মিলিতভাবে ২,০০,০০০ পর্যন্ত কর্মী ছাঁটাই করতে পারে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রধান তথ্য ও প্রযুক্তি কর্মকর্তারা গড়ে প্রায় ৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের পূর্বাভাস দিয়েছেন।
প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর কারণে সৃষ্ট কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রভাব ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান। কর্মী ছাঁটাইয়ের তথ্য সংগ্রহকারী ওয়েবসাইট Layoffs.fyi-এর তথ্যমতে, ২০২৬ সালের এ পর্যন্ত ৫০টিরও বেশি কোম্পানিতে ৩৫,০০০-এরও বেশি কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর পাওয়া গিয়েছে।
Oracle, Amazon এবং Meta-এর মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। যার মূল কারণ হিসেবে প্রায়শই ব্যয় সংকোচন এবং এআই-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহারকে উল্লেখ করা হয়েছে।
