আজকাল ওয়েবডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে বিমান সংস্থাগুলির অন্যতম প্রধান খরচ অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের দাম ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে দেশীয় বিমান ভাড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে এবং বিমান সংস্থাগুলিকে স্বস্তি দিতে কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে সরকার সাময়িকভাবে বিমানবন্দরের চার্জে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় ঘোষণা করেছে, যা আগামী তিন মাস কার্যকর থাকবে। এই পদক্ষেপের ফলে বিমান সংস্থাগুলির অপারেশনাল খরচ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে যেভাবে খরচ বেড়েছে, তা পুরোপুরি সামাল দেওয়া সম্ভব না হলেও এই ছাড় সাময়িকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।
বিমান সংস্থাগুলির মোট খরচের প্রায় ৪০ শতাংশই জ্বালানি বাবদ ব্যয় হয়। ফলে এটিএফের দামের সামান্য বৃদ্ধি হলেও তার প্রভাব সরাসরি ভাড়ায় পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এটিএফের দামও ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে ভাড়া বাড়ানো ছাড়া বিমান সংস্থাগুলির কাছে খুব বেশি বিকল্প থাকে না।
তবে সরকার চায় না যে এই মূল্যবৃদ্ধির পুরো চাপ যাত্রীদের ওপর এসে পড়ুক। তাই বিমানবন্দর চার্জ কমানোর পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রেও সহায়ক নীতি নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। যেমন, রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনা করে এটিএফের ওপর আরোপিত ভ্যাট কমানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি রাজ্য এই ক্ষেত্রে কর কমিয়েছে, যার ফলে ওই রাজ্যগুলিতে বিমান পরিষেবা পরিচালনা তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়েছে।
এছাড়া বিমান সংস্থাগুলিকে খরচ কমানোর জন্য আরও দক্ষ অপারেশনাল কৌশল গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আধুনিক, জ্বালানি-সাশ্রয়ী বিমান ব্যবহার, রুট অপ্টিমাইজেশন এবং যাত্রী লোড ফ্যাক্টর বাড়ানোর মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে সংস্থাগুলি নিজেদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমাতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে সরকারের পদক্ষেপগুলি স্বল্পমেয়াদি স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান করতে হলে জ্বালানি মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং বিকল্প শক্তির উৎসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
বায়োফুয়েল বা টেকসই অ্যাভিয়েশন ফুয়েল ব্যবহারের দিকেও ধীরে ধীরে এগোতে হবে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ও বিমান সংস্থাগুলির সমন্বিত প্রচেষ্টাই যাত্রীদের জন্য ভাড়া নিয়ন্ত্রণে রাখার মূল চাবিকাঠি। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায়, তার ওপরই নির্ভর করবে বিমান ভাড়ার ভবিষ্যৎ।















