আজকাল ওয়েবডেস্ক: অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের কাছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেছে জম্মু ও কাশ্মীর জেনারেল লাইন টিচার্স ফোরাম। অল ইন্ডিয়া এনপিএস এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের অধীন এই শিক্ষক সংগঠন বেতন কাঠামোর অসঙ্গতি দূর করা, পুরনো পেনশন প্রকল্প পুনর্বহাল, উচ্চতর ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, চিকিৎসা ও শিশু শিক্ষা ভাতা বৃদ্ধি-সহ একাধিক প্রস্তাব কমিশনের কাছে জমা দিয়েছে।


শিক্ষক সংগঠনের দাবি, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় অষ্টম বেতন কমিশনে ২.০-এর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণ করা উচিত। এতে কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং তাঁদের ক্রয়ক্ষমতা পুনরুদ্ধার হবে।


অন্যতম প্রধান দাবি হল, ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেমের আওতায় থাকা কর্মীদের জন্য পুরনো পেনশন প্রকল্প পুনর্বহাল করা অথবা তার সমতুল্য একটি নিশ্চিত পেনশন ব্যবস্থা চালু করা। সংগঠনের মতে, বর্তমানে এনপিএসের আওতায় থাকা শিক্ষকরা অবসরের পর আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাই তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে নির্দিষ্ট ও গ্যারান্টিযুক্ত পেনশন ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।


শিক্ষক সংগঠন আরও জানিয়েছে, সপ্তম বেতন কমিশন এবং পদোন্নতির নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর বহু ক্ষেত্রে বেতন সংক্রান্ত অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন চাকরি করা সিনিয়র শিক্ষকরা অনেক সময় তাঁদের জুনিয়র সহকর্মীদের তুলনায় কম বেতন পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিকে অন্যায্য উল্লেখ করে এককালীন বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্ত বেতন বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি, সংশোধিত বেতন অতীতের নির্দিষ্ট সময় থেকে কার্যকর করারও আবেদন জানানো হয়েছে।


সংগঠনটি ২০১৯ সালের সাধারণ লাইন শিক্ষকদের জন্য বিশেষ দাবিও তুলেছে। তাদের মতে, ওই ব্যাচের যোগ্য শিক্ষকদের দুটি নোটিওনাল ইনক্রিমেন্ট প্রদান, সেই অনুযায়ী বেতন পুনর্নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত চাকরিগত সুবিধা দেওয়া উচিত। এতে ওই শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান হবে।


জম্মু ও কাশ্মীরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কঠিন সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করেন বলে উল্লেখ করেছে। তাই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অন্যান্য শিক্ষকদের মতো সমান বেতন ও পরিষেবা সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।


প্রতিবন্ধী কর্মচারীদের জন্যও একাধিক সুপারিশ করেছে শিক্ষক সংগঠন। তাদের দাবি, প্রতিবন্ধী কর্মীরা চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সহায়ক যন্ত্রপাতির জন্য অতিরিক্ত খরচ বহন করেন। তাই তাঁদের প্রতিবন্ধী ভাতা ও পরিবহণ ভাতা বৃদ্ধি, উন্নত চিকিৎসা সুবিধা, অতিরিক্ত ছুটি, বিশেষ কর ছাড় এবং নিশ্চিত অবসরকালীন সুবিধা দেওয়া উচিত।


এছাড়া বর্তমানে মাসিক ৩০০ টাকার চিকিৎসা ভাতা বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের মতে, বর্তমান স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যয় বিবেচনায় ভাতা অত্যন্ত অপ্রতুল।


একইভাবে, বর্তমানে প্রতি সন্তানের জন্য মাসিক ২,৮১৩ টাকার শিশু শিক্ষা ভাতা বাস্তব শিক্ষাব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয় বলে দাবি করা হয়েছে। তাই এই ভাতা বাড়িয়ে প্রতি সন্তানের জন্য মাসিক ৫,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে সরকারি কর্মচারীরা তাঁদের সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারেন।

 


অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া এই প্রস্তাবগুলির মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের শিক্ষক সংগঠন আশা করছে, দীর্ঘদিনের বেতন, পেনশন ও ভাতা সংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং শিক্ষক সমাজের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে।