আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে তৃণমূল সরকারের আমলে সরকারি হাসপাতালগুলোর পরিষেবার মান নিয়ে বহু অভিযোগ মানুষের মধ্যে জমা হচ্ছিল। সেই সমস্ত সমস্যা নিরসনের উদ্দেশ্য নিয়ে শুক্রবার রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তাদের সঙ্গে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছেন। শুক্রবারের বৈঠকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। কোনও রোগীকে অকারনে রেফার করা যাবে না। হাসপাতালে দালাল চক্র বন্ধ করতে হবে। এর পাশাপাশি সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপর সরাসরি নজরদারি চালাতে কলকাতা স্বাস্থ্য ভবনে একটি বিশেষ 'ওয়ার রুম' তৈরি করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যখন বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য একের পর এক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছেন ঠিক সেই সময়ই মুর্শিদাবাদের লালগোলার কৃষ্ণপুর গ্রামীণ হাসপাতালে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ালো হাসপাতাল চত্বরে।
বাহাদুরপুর এলাকার বাসিন্দা মেনকা হালদার নামে বছর পঁচিশের ওই মহিলাকে শুক্রবার বিকেল নাগাদ লালগোলার কৃষ্ণপুর গ্রামীণ হাসপাতালে পেটে ব্যথা এবং অন্যান্য কিছু সমস্যা নিয়ে ভর্তি করানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, ওই মহিলার অবস্থার অবনতি হলেও হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক বা নার্সরা তাঁর চিকিৎসার জন্য কোনও উদ্যোগ নেননি। মেনকা হালদারের মৃত্যুর পর ওই হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার তাঁকে দেখতে এলে হাসপাতালে মৃতের পরিজনেরা বিক্ষোভ দেখান। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, পেটে ব্যথা, বমি এবং অন্যান্য কিছু সমস্যা নিয়ে শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটা নাগাদ মেনকার পরিবারের লোকেরা তাঁকে কৃষ্ণপুর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করিয়েছিলেন।
মৃতের পরিবারের এক সদস্য অভিযোগ করেন, মেনকার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে আমরা বারবার হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্সদেরকে তাঁকে বহরমপুরের রেফার করে দিতে বলেছিলাম ,যাতে মেনকাকে বহরমপুরে নিয়ে গিয়ে ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা করানো যায়। মৃতের পরিবারের দাবি, হাসপাতালে সেই সময় কোনও ডাক্তার না থাকায় কর্তব্যরত নার্সরা মেনকাকে বহরমপুরের রেফার করতে পারেননি।
মৃতের পরিবারের আরও দাবি, হাসপাতালে একজন চিকিৎসক উপস্থিত হলে তাঁকে বারবার মেনকার শারীরিক অবস্থার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু আমাদের কোনও অনুরোধেই ডাক্তার মেনকাকে দেখতে আসেননি। বারবার বমি করে এবং পেটের যন্ত্রনায় মেনকা ক্রমশ ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ মেনকা রাতের দিকে মারা গেলে তারপর ডাক্তারবাবু তাঁকে দেখতে আসেন।
চিকিৎসার গাফিলতিতে এক রোগীর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই প্রচুর মানুষ সেখানে জড়ো হয়ে যান এবং বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। সেই সময় হাসপাতালে পৌঁছে যান মুর্শিদাবাদ যুব কংগ্রেস সভাপতি তৌহিদুর রহমান সুমন। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন। মৃতের পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁরা মেনকার মৃত্যুর জন্য হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার এবং নার্সদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে চলেছেন।
&t=1sবিএমওএইচ (লালগোলা) ডাঃ মফিজ শেখ বলেন ,"রোগী মৃত্যুর ঘটনার খবর পেয়ে আমি নিজে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। ডাক্তার এবং নার্সরা সেই সময় সকলেই ডিউটিতে ছিলেন। কিন্তু মৃতের পরিবারের তরফে অন্য অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকেও গোটা বিষয়টি জানানো হয়েছে। "















