মিল্টন সেন, হুগলি: মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সভা ঘিরে জন উচ্ছ্বাস আছড়ে পড়েছিল সিঙ্গুরে। জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল সিঙ্গুরের ইন্দ্রখালি এলাকায়। বুধবার দুপুরে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় সভা। 

এদিন সভাস্থলে পৌঁছে প্রথমে সৃষ্টিশ্রী স্টল উদ্বোধন করেন। সেখানে ছিল কামারপুকুরের সাদা বোঁদে থেকে জনাই-এর মনোহরা, চন্দননগরের সূর্য্য মোদকের জলভরা সন্দেশ, বিখ্যাত রসমাদুরি থেকে নারকেল মালার তৈরি নানান হস্তশিল্প। ছিল ঝিনুকের তৈরি গয়না, ধনেখালির তাঁতের শাড়ি, কাঁথান সহ হাতে তৈরি নানা সামগ্রী। 

সভামঞ্চ থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ের বাংলার বাড়ি প্রকল্পের শুভ সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। একসঙ্গে ১০ জন উপভোক্তার হাতে অনুমোদন এবং আর্থিক সাহায্য তুলে দেন। একইসঙ্গে পরিবার পিছু ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে ২০ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি বেশ কিছু প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন। 

এদিন সকাল থেকেই সিঙ্গুরমুখী মানুষের মিছিলে অবরুদ্ধ হয়ে যায় জেলার অধিকাংশ রাস্তা। দিল্লি রোড, জিটি রোড, বৈদ্যবাটি তারকেশ্বর রোড, ডানকুনি চন্ডীতলা রোড-সহ বিশেষ করে সিঙ্গুরের রাস্তাঘাট উপচে পড়েছিল বাস, ট্রেকার, লরি ইত্যাদির লাইনে। আর প্রত্যেকটি গাড়ি ছিল কর্মী সমর্থকদের ভিড়ে ঠাসা। 

দলীয় কর্মী, সমর্থক ছাড়াও সেই ভিড়ে পা মিলিয়েছিলেন কৃষক, শ্রমিক, কর্মচারী, ছাত্র, যুব, মহিলা, সমবায়ের কর্মী সদস্য, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা সহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। এদিন সভায় যোগ দিতে আসা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যা রেবতী দাস বলেছেন, 'দিদি আরও উন্নয়ন করুক সেটাই চাই। প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরে এসে তো কিছুই বলেননি। দিদি নিশ্চয়ই বলবেন। তিনি যাচ্ছেন যাবেন। বাম বিরোধী আন্দোলন করে তিনি জেল খেটেছেন। তিনি আশাবাদী ভোটের আগে চমক থাকবে। আবারও রাজ্যে সরকার গড়বেন মমতা ব্যানার্জি।' 

এদিকে মঞ্চের ঠিক বাম দিকে ভিড় জমিয়েছিল স্কুল পড়ুয়া, ছাত্রীরা। তাদের হাতে ছিল 'আমি মেধাশ্রী', 'আমি কন্যাশ্রী', 'আমি রূপশ্রী', 'আমি ঐক্যশ্রী' ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড। এদিন নজর কেড়েছে সমাবেশে উপস্থিত অসংখ্য মহিলাদের সংখ্যা। উপস্থিত সকলের মুখে হাসি, উচ্ছ্বাস নজরে পড়েছে। দীর্ঘদিন পর সিঙ্গুরে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভিড় জমেছিল মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে। তাঁর কথা শুনতে। 

তাই দলীয় পতাকার জামা গায়ে দিয়ে খানাকুল থেকে পায়ে হেঁটে সভাস্থলে রওনা হয়েছিলেন তাইবুল মণ্ডল। এদিন বেলা একটা নাগাদ দলীয় পতাকার জামা গায়ে দিয়ে ষাট কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেঁটে এটা সভাস্থলে পৌঁছতে দেখা যায় তাইবুলকে। 

এদিকে শহীদ তাপসী মালিকের বাবা মনোরঞ্জন মালিক বলেছেন, 'দিদি যা উন্নয়ন করেছেন, রাজ্যে ক্ষমতায় দিদিই থাকবেন'। সিঙ্গুর কৃষি জমি রক্ষা কমিটির তৎকালীন নেতা দুধকুমার ধারা বলেছেন, সিঙ্গুর নিয়ে অহেতুক রাজনীতি হচ্ছে। অবিলম্বে সেটা বন্ধ হোক। সিঙ্গুরে চাষযোগ্য জমির বাদ দিয়ে বাকি জমিতে শিল্প গড়ে উঠুক।
ছবি: পার্থ রাহা