আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ের মাঠে নামার আগে কর্মীদের চাঙা করে তুললেন মমতা ব্যানার্জি। দিয়ে দিলেন 'ভোকাল টনিক'। আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে জানিয়ে দিলেন এবার তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা আরও বাড়বে। গ্যাসের 'সঙ্কট' নিয়ে সোমবার যে মিছিল তিনি করেছিলেন সেই মিছিল শেষ হল আগামী নির্বাচনে কর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশের মধ্যে দিয়ে।
রাজ্য তথা দেশজুড়ে এই মুহূর্তে তৈরি হয়েছে রান্নার গ্যাস নিয়ে এক অন্যরকম পরিস্থিতি। অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে মমতা দেরি করেননি এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়টি ধরতে। ফলে গৃহস্থের এই হেঁশেলের সমস্যা নিয়ে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়লেন এই ইস্যুতে রাজ্যের প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে যেতে। মিছিল শেষে ধর্মতলার বক্তৃতা মঞ্চ থেকে তিনি তীব্র আক্রমণ করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে। কেন্দ্রের বিজেপি পরিচালিত সরকারের দিকে আঙুল তুলে তিনি বলেন, “গ্যাসের সার্ভার বন্ধ করে একটা কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করেছে। গ্যাসের কোনও সঙ্কট নেই।” এই প্রসঙ্গে তাঁর সরকারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা করেছি। কেন বিজেপি সব জেনেও আগে থেকে পরিকল্পনা করেনি?” রাজ্যবাসীকে এরপরই তিনি বলেন, “অনেক কঠিন পথ পেরিয়েছি। আমাদের উপর ভরসা, বিশ্বাস ও আস্থা রাখুন।”
বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হওয়ার পর ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিব থেকে রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদে রদবদল করেছে নির্বাচনী কমিশন। এই প্রসঙ্গে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর বদলির প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, “বাঙালি মহিলা অফিসারকে সরানো হয়েছে। ওরা নারীবিদ্বেষী।” এরপরই তিনি দাবি করেন, “যাঁদেরই আপনারা পাঠাবেন তাঁরা সবাই আমাদের হয়ে কাজ করবেন। বাংলার হয়ে কাজ করবেন।” রবিবার মধ্যরাতে এই বদলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মধ্যরাতে গুপ্ত তাণ্ডব বিজেপির।”
মমতার অভিযোগ, বিজেপি রাজ্যে সরকারে এলে মাছ, মাংস বন্ধ করে দেবে। বাজার বন্ধ করে দেবে।পাশাপাশি এসআইআর-এ যাদের নাম বাদ যাবে তাঁরা যেন আবেদন করেন এবং এই বিষয়ে তাঁর দলের পক্ষ থেকে বিনা পয়সায় আইনি সাহায্য দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। মমতার কথায়, “আগামী দিনে সব পরিবর্তন করুন। কিন্তু বাংলায় সরকার পরিবর্তন হবে না।”
