আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিরীহ পশুর ওপর নৃশংসতা! চাষের জমিতে ঢুকে পড়ার 'অপরাধ'। এর জেরে একটি অবলা ষাঁড়কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠল নদিয়ার ফুলিয়ায়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে নাম জড়িয়েছে স্থানীয় এক বিজেপি নেতা ও তাঁর এক সঙ্গীর।
মঙ্গলবার সকালে নদিয়ার ফুলিয়া অঞ্চলের নবলা পঞ্চায়েতের তালতলা এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক দুই অভিযুক্ত।
স্থানীয় সূত্রে খবর, তালতলা এলাকায় একটি জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করেন রাখাল দাস নামে এক ব্যক্তি। এলাকায় তিনি ৪২ নম্বর বুথের বিজেপি সভাপতি ও কনভেনর হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ, মঙ্গলবার সকালে একটি ষাঁড় তাঁর চাষের জমিতে ঢুকে পড়লে মেজাজ হারান রাখাল। এর পরেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে তিনি অবলা প্রাণীটির পায়ে সজোরে কোপ মারেন বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে ষাঁড়টি।
রাখালের সঙ্গে এই ঘটনায় রুহি দাস নামে আরও এক বিজেপি সমর্থকের নাম জড়িয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মাঝেমধ্যেই ওই জমিতে গবাদি পশু ঢুকে পড়লে তাদের মারধর করে তাড়ানো হতো। কিন্তু আজকের এই নৃশংসতা দেখে রীতিমত শিউরে উঠেছেন স্থানীয়রা।
ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। খবর পেয়ে রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তাপস ঘোষ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আহত পশুর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই অমানবিক ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকায় গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করেছেন গ্রামবাসীরা।
"একটি নিরীহ প্রাণীর ওপর এমন এহেন নৃশংসতা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।" গ্রামবাসীদের স্পষ্ট বক্তব্য।
এদিকে, ঘটনার পর থেকেই এলাকাছাড়া রাখাল দাস ও রুহি দাস। শান্তিপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই বিষয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। আপাতত পুলিশের নজরদারিতে এলাকায় উত্তেজনা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা গিয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারি নিয়ে অনড় তালতলা এলাকার বাসিন্দারা।














