আজকাল ওয়েবডেস্ক: শান্তির এবং সোনার ফলতা গড়তে রনে ভঙ্গ দিয়েছেন 'পুষ্পা'। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এই ভোট তিনি আর লড়বেন না। একদিকে ফলতার উন্নয়নের কথা জাহাঙ্গীর খানের মুখে, অন্যদিকে ফলতা নিয়ে শুভেন্দুর প্যাকেজের প্রশস্তিও করেছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, জাহাঙ্গীরের এই সিদ্ধান্ত কি তাঁর ব্যক্তি সিদ্ধান্ত নাকি দলের সিদ্ধান্ত? সোশ্যাল মিডিয়ায় নওশাদ সিদ্দিকি প্রশ্ন করেন, 'ফলতার নির্বাচনে থেকে
সরে দাঁড়ালেন জাহাঙ্গীর খান! স্বেচ্ছায় না বিজেপিকে বার্তা? না তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বোঝাপড়া?'

কিছুক্ষণেই তা স্পষ্ট করল তৃণমূল। তৃণমূল কংগ্রেস সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছে, 'ফলতা পুনঃনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর যে সিদ্ধান্ত জাহাঙ্গীর খান নিয়েছেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, দলের নয়।' সঙ্গেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, '৪ঠা মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে শুধু ফলতা বিধানসভাতেই আমাদের দলের শতাধিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিনের আলোয় ভয় দেখিয়ে দলের বেশ কয়েকটি কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে, অথচ বারবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন দেখেও না দেখার ভান করে চলেছে। এইসব চাপের মুখেও আমাদের কর্মীরা অটল রয়েছেন এবং বিভিন্ন সংস্থা ও প্রশাসনের মাধ্যমে বিজেপির চালানো ভয়ভীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে, শেষ পর্যন্ত কেউ কেউ চাপের কাছে নতি স্বীকার করে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। বাংলা বিরোধী বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে—পশ্চিমবঙ্গে এবং দিল্লিতে দু'জায়গাতেই।'
?s=48
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান বলেন, 'আমি ফলতার ভূমিপুত্র। এই মাটির মানুষের পাশে সবসময় থেকেছি, আগামীতেও থাকব। কিন্তু রাজনৈতিক সংঘাত বা অশান্তি সৃষ্টি করে নয়, মানুষের উন্নয়নই আমার প্রধান লক্ষ্য। তাই সাধারণ মানুষের শান্তি বজায় রাখতে আমি এই উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
জাহাঙ্গীর খান আরও দাবি করেন, 'রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। সেই উন্নয়নমূলক প্রকল্পকে সফলভাবে বাস্তবায়িত করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।' তাঁর বক্তব্য, 'ফলতার উন্নয়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি চাই না রাজনৈতিক লড়াইয়ের কারণে উন্নয়নের কাজ ব্যাহত হোক। তাই আমি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক লড়াইয়ের থেকে এলাকার স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।'
তাঁর এই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নির্বাচনের ঠিক আগে এমন সিদ্ধান্ত কেন? এর পিছনে কি শুধুই উন্নয়নের স্বার্থ, নাকি রয়েছে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ? যদিও এই বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে চাননি জাহাঙ্গীর খান। তিনি শুধু জানিয়েছেন, মানুষের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।














