আজকাল ওয়েবডেস্কঃ রাজ্যে পাথর শিল্পকে ঘিরে ডিসিআর বা ডিমান্ড কালেকশন রেজিস্টার নিয়ে বড়সড় কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুললেন সিউড়ির বিজেপি নবনির্বাচিত বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ডিসিআর পরিচালনার আড়ালে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব লুঠ হয়েছে। সেই অঙ্ক ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে। শনিবার সিউড়ি সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
বিধায়কের বক্তব্য অনুযায়ী, এতদিন বীরভূমের বিভিন্ন পাথর খাদান ও স্টোন চিপস বহনকারী গাড়ি থেকে ডিসিআর বাবদ টাকা তোলার কাজ বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে চলত। কিন্তু সম্প্রতি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবার থেকে সরাসরি সরকারি ব্যবস্থাপনায় এই রাজস্ব আদায় হবে। সেই অনুযায়ী বিভিন্ন ডিসিআর চেক গেটে একসঙ্গে কাজ করছেন ভূমি দপ্তর, পুলিশ প্রশাসন, সাধারণ প্রশাসন এবং এমভিআই বিভাগের আধিকারিকরা। পশ্চিমবঙ্গ মিনারেল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের অনুমোদিত চালান ইস্যুর দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে ভূমি দপ্তরকে।
এই নতুন ব্যবস্থায় গত ১৭ মে থেকে সরকারিভাবে রাজস্ব আদায় শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে মোট ৯টি চেক গেটে চালান কাটা এবং টাকা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। এই চেক গেটগুলি রয়েছে মহম্মদ বাজার, রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লক, ময়ূরেশ্বর ১ নম্বর ব্লক, নলহাটি ১ নম্বর ব্লক এবং মুরারই এলাকায়। বিধায়কের দাবি, মাত্র দু’দিনেই রাজস্ব আদায়ের অঙ্ক দেখে প্রশাসনের চোখ কপালে উঠেছে।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৭ মে প্রথম দিনে ডিসিআর বাবদ রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় দিনে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। ভূমি দপ্তরের আধিকারিকদের অনুমান, আগামী দিনে প্রতিদিন এই রাজস্ব আদায় ৩ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে।
এরপরই অতীতের রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রশ্ন তোলেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১৯ লক্ষ টাকা রাজস্ব জমা পড়ত। পরে নভেম্বর ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত তা বেড়ে দৈনিক ৭০ লক্ষ টাকায় পৌঁছয়। কিন্তু এখন সরকারি তত্ত্বাবধানে কাজ শুরু হতেই কয়েক দিনের মধ্যেই আয়ের অঙ্ক কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এতদিন পরিকল্পিতভাবে বিপুল রাজস্ব চুরি হয়েছে।
বিধায়ক আরও দাবি করেন, বর্তমানে যদি মাসে ৯০ কোটির বেশি টাকা ডিসিআর থেকে আদায় সম্ভব হয়, তাহলে অতীতে মাসিক ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা জমা পড়ার অর্থ হল প্রতি মাসে অন্তত ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকার গরমিল ছিল। সেই হিসাব ধরলে গত ১৫ বছরে রাজ্যের ক্ষতির পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।
এদিন তিনি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রীর তরফে সম্প্রতি রাজস্ব আদায় নিয়ে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বৈধ ডিসিআর ছাড়া কোনও পাথরবোঝাই গাড়ি ধরা পড়লে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্পট ফাইন করা হবে, প্রয়োজনে গাড়ি বাজেয়াপ্তও করা হবে।
পুরো বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিও তুলেছেন সিউড়ির বিজেপি বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনায় যদি কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তি, সরকারি কর্মী বা বেসরকারি সংস্থার যোগসূত্র থাকে, তাহলে কাউকেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরির কাজ শুরু করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে বীরভূম জেলার তৃণমূল সহ সভাপতি মলয় চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন তোলেননি বা মেসেজের জবাব দেননি।














