আজকাল ওয়েবডেস্কঃ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা রাজ্যের জুটশিল্পে ফের আশার আলো। রাজ্যের ১৮টি বন্ধ জুটমিল পুনরায় চালু হতে চলেছে। সেই লক্ষ্যে শ্রমমন্ত্রী তথা পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের উদ্যোগে একের পর এক মিল খোলার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বরানগর জুটমিল, জগদ্দল জুট ইন্ডাস্ট্রিজ এবং এমকো জুটমিল চালু হওয়ায় প্রায় সাত হাজার শ্রমিক পুনরায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি নৈহাটি ও কাঁকিনাড়া জুটমিল চালুর ঘোষণায় ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে খুশিরও হাওয়া।
মিল খোলার ঘোষণাকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের মধ্যে উৎসবের আবহ দেখা যায়। গেরুয়া আবির মেখে, লাড্ডু বিতরণ করে এবং বাজি ফাটিয়ে আনন্দ উদযাপন করেন তাঁরা। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর কাজে ফেরার সম্ভাবনায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন শ্রমিকরা।
বুধবার সকাল থেকেই কাঁকিনাড়া জুটমিলের গেটে ভিড় করেন বিভিন্ন শিফটের শ্রমিকরা। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে মিলের যন্ত্রাংশে একাধিক প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেওয়ায় কর্তৃপক্ষ গেটে নোটিশ টাঙিয়ে জানিয়েছে, আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত মেনটেনেন্সের কাজ চলবে। ১৬ জুলাই থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে পারবেন এবং নিয়মিত উৎপাদন শুরু হবে।
শ্রমিকদের বক্তব্য, এতদিন কর্মহীন থাকার পর আরও ১৫ দিন অপেক্ষা করতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। তাঁদের একমাত্র দাবি, মিলটি স্থায়ীভাবে চালু থাকুক এবং নিয়মিত কর্মসংস্থান নিশ্চিত হোক।
শ্রমমন্ত্রী তথা পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিং জানান, কাঁকিনাড়া জুটমিলের মেনটেনেন্সের কাজ শেষ হলেই পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু হবে। এছাড়াও রাজ্যের অন্যান্য বন্ধ জুটমিলগুলির মালিকপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক চলছে।
তাঁর দাবি, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে আরও একাধিক বন্ধ জুটমিল খোলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
দীর্ঘদিনের সঙ্কটের পর জুটশিল্পে এই ইতিবাচক অগ্রগতি ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের হাজার হাজার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের কাছে নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে। রাজ্যে পালাবদলের পর এবার তাই পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটানোর স্বপ্ন দেখছেন শ্রমিকেরা।
















