আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার বিধানসভায় ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইনটেনেন্স অফ পাবলিক অর্ডার অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’ তথা গুন্ডাদমন বিল নিয়ে আলোচনার সময় এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আচমকাই বাম জমানার প্রসঙ্গ টেনে এনে সিপিএমকে তীব্র আক্রমণ করেন। রাজনীতিতে অপরাধীদের আমদানি এবং দুর্বৃত্তায়নের জন্য সরাসরি সিপিএমকে দায়ী করে তিনি প্রাক্তন বাম নেতা সুশান্ত ঘোষ, লক্ষ্মণ শেঠ ও অমিয় পাত্রদের কড়া সমালোচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ১৯৯৯ সালের আগে বাংলায় এমন পরিস্থিতি ছিল না, কিন্তু ২০০১ সালে ক্ষমতা হারানোর ভয়েই সংগঠিত 'হার্মাদ বাহিনী' তৈরি করা হয়েছিল।

তবে এই তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণের মাঝেই এক চমকপ্রদ মোড় আসে মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। বাম আমলের কড়া সমালোচনা করতে করতেই তিনি ডোমকলের বর্তমান সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানার প্রশংসা করে বসেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যদিও ডোমকল থেকে একজন ভদ্রলোক জিতে এসেছেন।’ বর্তমানে রানা পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র সিপিএম বিধায়ক হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর এই শংসাপত্র ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

এই প্রশংসা নিয়ে মুখ খুলেছেন খোদ ডোমকলের বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানাও। সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত মার্জিতভাবে বলেন, ‘উনি আমার সম্পর্কে যা বলেছেন, সেটা ওঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন। তবে বামপন্থীরা সাধারণত ভদ্রলোকই হন।’ তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, এর আগে তাঁর কেন্দ্র থেকে যাঁরা নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাঁরাও অত্যন্ত ভদ্র মানুষ ছিলেন। সদ্যপ্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রসঙ্গ টেনে রানা বলেন, ‘এখন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে নিয়ে চর্চা হচ্ছে, ওঁকে একসময় কতরকম আক্রমণ করা হয়েছে, আজ সবাই স্বীকার করছেন উনি ভদ্রলোক ছিলেন।’

এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বঙ্গ সিপিএমের অন্দরেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় সমর্থক ও বাম নেতৃত্বের একাংশ মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগকে একহাত নিয়েছেন। তাঁদের দাবি, বাংলার রাজনীতিতে ভদ্রতার সংস্কৃতি বামফ্রন্টের হাত ধরেই সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বরং তার আগে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের আমলেই এ রাজ্যে রাজনৈতিক অপরাধীকরণের সূচনা হয়। পাল্টা আক্রমণ শাণিয়ে বাম সমর্থকদের বক্তব্য, তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা এবং তার পরবর্তী সময়ে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বেই আসলে রাজনীতিতে দুষ্কৃতীদের আধিপত্য কায়েম হয়েছে, যার ধারা আজও চলছে। গুন্ডাদমন বিলের মতো একটি সংবেদনশীল বিষয়ে আলোচনার মাঝে মুখ্যমন্ত্রী ও একমাত্র বাম বিধায়কের এই বাক্যবিনিময় এবং তার জেরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্ক এখন রাজ্য রাজনীতির অন্দরে অন্যতম প্রধান চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।