রিয়া পাত্র

হাজরায় ধুন্ধুমার। বারুইপুর-কাণ্ডের প্রতিবাদে কালীঘাট তৃণমূলের ছাত্র-যুবদের মিছিল ঘিরে বুধবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। হাইকোর্টের নির্দেশ মতো, বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে মিছিল শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে ওঠে 'চোর চোর' ধ্বনি। চলে 'মাছ চোর' গান। 

পরে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন কালীঘাট তৃণমূল ও বিজেপির কর্মীরা। মিছিলে না গেলেও কর্মীদের আহত হওয়ার খবর পেয়ে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে আহত কর্মীদের চিকিৎসা শুরু করতে রাস্তায় নামতে হয় তৃণমূল নেত্রীকে। রাস্তা ফাঁকা করে আহত কর্মীদের নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, সংবাদমাধ্যমকেও তৃণমূল নেত্রী বলছেন, রাস্তা ফাঁকা করুন, আহতদের নিয়ে যেতে হবে। তৃণমূল সূত্রে খবর, ৪১ জন কর্মী আহত হয়েছেন এদিনের ঘটনায়। তাঁদের এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সেই সময়েই ঠিক মতো ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় বহুদিনের পুরনো এক তৃণমূল কর্মীর গালে চড় মারতে দেখা যায় মমতাকে। তবে দলের অন্যান্য কর্মীরা বলছেন, কোনও রাগ না আক্রোশ থেকে নয়। বরং, স্নেহ করেন বলেই এই কাজটি করেছেন তাঁদের ‘দিদি’। 

উল্লেখ্য, এদিনের মিছিলে কর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় রাজ্যের বিজেপি সরকারের একহাত নিয়েছেন মমতা। বলেন, ‘হাইকোর্ট থেকে অনুমতি নিয়ে এই মিছিল হচ্ছে। কিন্তু, বিজেপির গুন্ডারা আমার বাড়িতে সকালে এসে চিৎকার করে ভয় দেখিয়েছে। সকলেই জানি এই সরকার কীভাবে তৈরি হল। আমাদের কোথাও যেতে দিচ্ছে না। হাউস অ্যারেস্ট করেছে। নজরদারি চালাচ্ছে। কিন্তু, মেয়েদের কোনও সুরক্ষা দিতে পারছে না পুলিশ। ভাড়াটে গুন্ডারা লুম্পেনগিরি করেছে। ছেলে-মেয়ে সকলকে মারা হয়েছে। এই পরিবর্তন কি বাংলার মানুষ চেয়েছিল? তা সত্ত্বেও মিছিল হল। আমাদের হ্যান্ড মাইকের পারমিশন ছিল, সেটা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের চেয়েও পরিস্থিতি খারাপ।’ 

রামমন্দিরে চুরির ঘটনাকে তুলে ধরে বিজেপিকে নিশানা করেন মমতা। বলেন, ‘যারা রামের টাকা চুরি করে খায়। যারা প্রণামী বাক্স থেকে টাকা চুরি করে, তাঁরাই রামের নামে শ্লোগান দিয়ে রামের অবমাননা করছে। আমি বলি 'রামকা নাম বদনাম না করো।’ 

মমতা ব্যানার্জির দাবি, ‘হাইকোর্টের রায় মেনে পুলিশ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ। এটা আদালত অবমাননা। আমরা এর ধিক্কার জানাই। দু'মাসের মধ্য়ে ১৪ জন মহিলা নিগ্রিহীত। সরকারের কাছে আবেদন, শান্তি বজায় রাখুন।’ কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে বুধবার বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে তৃণমূলের ছাত্র, যুবদের মিছিল ছিল হাজরা মোড় পর্যন্ত। অভিযোগ, অন্য একটি মিছিল সেখানে ঢুকে পড়ে। এর ফলেই অশান্তি শুরু হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, এভাবে মিছিলে ঢুকে পড়ার অর্থ আদালত অবমাননা। বিজেপির লোকজন এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। শুরু হয় মারপিট।