আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ষষ্ঠ শ্রেণীর পড়ুয়া বছর ১২-র নাবালিকাকে গণধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় উত্তাল হয়েছে রাজ্য। এই ঘটনায় একের পরে এক গ্রেপ্তার হয়েছে। গণপিটুনিতে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। অপরাধের পুনর্নির্মাণ করতে গিয়ে পুলিশি ‘এনকাউন্টার’-এ এক অভিযুক্তের মৃত্যুও হয়েছে। এই ‘এনকাউন্টার’ নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধীরা আঙুল তুলছে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার। কিন্তু ঠিক কী ঘটেছিল মঙ্গলবার গভীর রাতে? কেন ‘এনকাউন্টার’ করতে হল পুলিশকে?

বারুইপুর-কাণ্ডে রবিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল প্রভাসকে। ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে অভিযুক্ত প্রভসকে নিয়ে বারুইপুরের সূর্যপুরে গিয়েছিল পুলিশ। রাত ১২টা ১০ মিনিট তারপরই সব ওলটপালট হয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন আচমকা পুলিশি হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করে। তদন্তকারী অফিসারদের মধ্যে ছিলেন সাব ইনস্পেক্টর রনি সরকার। তাঁর সার্ভিস রিভলভার আচমকা কেড়ে নেয় প্রভাস। 

পুলিশ সূত্রে দাবি, এরপরেই পুলিশকে লক্ষ্য করে আচমকা গুলি চালায় প্রভাস। এরপরেই দলে থাকা অপর পুলিশ আধিকারিক অর্ঘ্য মণ্ডল পাল্টা গুলি চালান নিজেদের রক্ষা করার জন্য। দুই রাউন্ড গুলি চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’টি গুলির মধ্যে একটি প্রভাসের বুকের নীচে গিয়ে লাগে এবং অপরটি তলপেটে বিঁধে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রভাসকে উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর আহত অবস্থায় তাঁকে বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা প্রভাসকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এনকাউন্টারের ঘটনায় খুশি নির্যাতিতা ছাত্রীর পরিবার। তাদের বক্তব্য, “রাজ্য সরকার যেভাবে কাজ করছে তাতে তারা খুশি।” অভিযুক্তের মা নিজের ছেলের দেহ নিতে রাজি হননি। প্রভাসের স্ত্রীর বক্তব্য, “দোষ করেছে, তাই শাস্তি পেয়েছে।”

‘এনকাউন্টার’-এ পুলিশি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, “যে ব্যক্তিকে নিয়ে পুলিশের দাবি, তিনি একজন সাধারণ ভ্যানচালক এবং মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি যদি সহজেই পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিতে পারেন, তাহলে রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে।”

বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, “কোনও অপরাধীকে ছেড়ে রাখা যাবে না। কোনও রাজনৈতিক আশীর্বাদে কেউ পার পাবেন না।”

রবিবার, ৫ জুলাই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানার ধপধপি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সূর্যপুর হাট এলাকায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাড়ির কাছেই একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় ওই নাবালিকার দেহ। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে জানা গিয়েছে, যৌন নির্যাতনের পরে মাথায় আঘাত করে জলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তারপরই জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে নির্যাতিতার। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন প্রভাস। মঙ্গলবার গভীর রাতে ‘এনকাউন্টারে’ যাঁর মৃত্যু হয়েছে।