আজকাল ওয়েবডেস্ক: আচমকাই ১৫-২০ মিনিটের ঘূর্ণিঝড় সঙ্গে শিলাবৃষ্টির তাণ্ডব। লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা ব্লকের কয়েকটি গ্রাম। ভেঙে পড়ল  কাঁচাবাড়ি, বড় বড়  গাছও। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে তার ছিড়ে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন গোটা এলাকা।  

 স্থানীয়রা জানিয়েছেন,  বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট  নাগাদ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে 
দমকা  হাওয়া শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দমকা হাওয়ায় কাঁচা বাড়ি ভেঙে যায়।

মোটা মোটা গাছের ডাল ভেঙে পড়ে। বয়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের পারুলিয়া, মামা ভাগ্নে ও রামনগর মেহেরানি-সহ  কয়েকটি গ্রামের ওপর আছড়ে পড়ে ওই ঘূর্ণিঝড়। ঝড়ের তাণ্ডবে ভেঙে পড়েছে অসংখ্য কাঁচাবাড়ি।

দমকা ঝড়ে গাছপালা সব দুলতে থাকে। ঝড় শেষ হতেই দেখা যায়, বহু গাছ ভেঙে পড়েছে। রাস্তার পাশের বিদ্যুতের খুঁটিও উপড়ে গিয়েছে। কাঁচাবাড়ি ভেঙে পড়ে কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গিয়েছে।

 রামনগর মালিদা এলাকায়  বাড়ি ভেঙে  বেশ কিছু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়েছে গোটা এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ। রামনগরের অরুণ হীরা নামে এক বৃদ্ধ ঘর ভেঙে চাপা পড়েছিলেন।

স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাঁকে। এই মুহূর্তে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ বলে জানা গিয়েছে ৷ রোহিত বিশ্বাস নামে এক যুবক গাছের ডাল ভেঙে গুরুতর জখম হয়। তাঁকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে ৷
 
স্থানীয় রামনগরের বাসিন্দা দেবব্রত রায় বলেন, 'মাত্র ২০ মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে চারপাশের সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে। চোখের সামনে বড় বড় গাছ ভেঙে পড়েছে। কয়েকজন প্রতিবেশীর কাঁচাবাড়ি ভেঙে পড়েছে। মোট কত বাড়ি ভেঙেছে তা আমরা এখনও বুঝতে পারছি না। আচমকা ঘূর্ণিঝড়ে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।''

নমিতা বিশ্বাস নামে আরও এক বাসিন্দা বলেন,''হঠাৎ দেখলাম আকাশে কালো মেঘ। আমরা প্রথমে কিছুই বুঝতে পারিনি। তারপর দমকা হাওয়া দিয়ে ঘূর্ণিঝড় শুরু হল। ১৫-২০ মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে চারপাশের সবকিছু ভেঙে পড়ল। বহু কাঁচাবাড়ি ভেঙে পড়েছে। মাঠে আমাদের সাড়ে তিন বিঘা চাষের জমি ছিল। জমির সব ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমরা এখন কি করব জানি না।" 

প্রশাসনিক কর্তারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গিয়েছে ৷ স্থানীয় পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই বিষয়টি ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে।