আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুর্শিদাবাদ জেলায় বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র ৭ দিন আগে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করলেন জলঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রজ্জাক। সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি তৃণমূল থেকে পদত্যাগ করার কথা জানান। যদিও আব্দুর রজ্জাক জানিয়ে দিয়েছেন তিনি দলকে পদত্যাগের বিষয়ে কোনও চিঠি দেবেন না।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আব্দুর রজ্জাক, রানীনগরের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক তথা এবছরও ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সৌমিক হোসেনকে একহাত নিয়ে অভিযোগ করেন,"আমি ছাড়াও জলঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্রে কমপক্ষে ২০ -২৫ জন যোগ্য ব্যক্তি ছিলেন যারা তৃণমূলের প্রার্থী হতে পারতেন। আমার সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা না করেই সৌমিক হোসেন বেলডাঙা থেকে বাবর আলিকে এনে জলঙ্গিতে প্রার্থী করেছে।"
তিনি বলেন,"জলঙ্গির মানুষ বহিরাগত কাউকে প্রার্থী হিসেবে কখনই স্বীকার করেননি। এর আগে দু'বার 'বহিরাগত' সুব্রত সাহা ছাড়াও ইদ্রিস আলি এবং আলোক দাস এই কেন্দ্রে পরাজিত হয়েছেন।"
প্রসঙ্গত জলঙ্গির তিনবারের বিধায়ক আব্দুর রজ্জাককে এবছর তৃণমূল কংগ্রেস টিকিট দেয়নি। ২০১৯ সালে সিপিএম থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন রজ্জাক। ২০২১-এর নির্বাচনে উনি তৃণমূলের টিকিটে জলঙ্গি আসন থেকে জিতেছিলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে করে তৃণমূল দলের সঙ্গ ত্যাগ করে তিনি বলেন,"জলঙ্গি কেন্দ্রে যাকে প্রার্থী করা হয়েছে তিনি কোনওমতেই জয়ী হবেন না। ভোটের পর যাতে কেউ বলতে না পারে আমি দলে থেকে দল বিরোধী কাজ করেছি সেই কারণে ভোটের আগেই আমি দলত্যাগ করলাম। তা না হলে ভোটের ফল প্রকাশের পর আমাকে 'মীরজাফর' বলে দাগিয়ে দেওয়া হত।"
তবে আব্দুর রজ্জাক জানিয়ে দিয়েছেন, তৃণমূল ত্যাগ করলেও ভোটের আগে তিনি অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন না। তিনি বলেন,"ভোটের ফল প্রকাশের পর বা এক বছর পর অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যাব কি না তা এখনও জানিনা।"
আব্দুর রজ্জাক আরও বলেন ,"সম্প্রতি এই এলাকায় তৃণমূলের একটি রাজনৈতিক জনসভা থেকে আমার সম্পর্কে বলা হয়েছিল আমার বিরুদ্ধে নাকি অনেক অভিযোগ জমা পড়েছিল। কিন্তু এই বিষয় নিয়ে দল আমাকে কখনই কিছু বলেনি। আমি কখনই ঘরে বসে থাকতাম না, সবসময়ই এলাকায় ঘুরে ঘুরে কাজ করেছি।"
রজ্জাক অভিযোগ করেন,"রানীনগরের বিদায়ী বিধায়ক সৌমিক হোসেন ইচ্ছা করে ডোমকল এবং জলঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্রের বাইরের লোকেদের প্রার্থী করেছেন। তিনি চান ওই দুই কেন্দ্রেই দলের প্রার্থীরা পরাজিত হোক যাতে তিনি রাণীনগরে বসে ওই দুই কেন্দ্রকে 'চুষতে' পারেন। যদিও সৌমিক হোসেনের কারণে শুধু ডোমকল এবং জলঙ্গি কেন্দ্র নয়, রাণীনগর আসনেও তৃণমূল দল হারবে। "
সৌমিক হোসেনের বিরুদ্ধে আরও ক্ষোভ চড়িয়ে জলঙ্গির বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক বলেন,"রাণীনগর বিধানসভার অন্তর্গত চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত আমার এই এলাকায় পড়ে। গত পাঁচ বছর সৌমিক সেই এলাকায় ক্রমাগত 'ডিস্টার্ব' করেছে। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে ডোমকল, জলঙ্গি এবং রানীনগর সৌমিক হোসেনের দায়িত্ব ছিল। কিন্তু তিনটি কেন্দ্রেই তৃণমূল প্রার্থী পিছিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও দল তাঁর কথাতেই এই এলাকায় কাজ করছে। এর ফল কী হবে তা আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই রাজ্যের মানুষ দেখতে পাবেন। "
জলঙ্গির বিদায়ী বিধায়কের তোলা অভিযোগের উত্তর দিতে গিয়ে সৌমিক হোসেন বলেন,"টিকিট দেওয়ার আমি কেউ নই। উনি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য এরকম কথা বলছেন।"















