আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসআইআর প্রক্রিয়ার শুনানি ঘিরে মৃত্যুমিছিল বাড়ছেই বাংলায়। এবার এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যুর অভিযোগ পোলবার রাজহাটে। মৃতের নাম শেখ ইসমাইল(৭০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজহাট হোসনাবাদের বাসিন্দা শেখ ইসমাইল এসআইআর শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন।আগামী ৩০ জানুয়ারি ছিল তাঁর শুনানি। তাঁর পরিবারের অন্যদেরও শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শুনানিকেন্দ্রে গিয়েছিলেন বৃদ্ধ। সেখানে গিয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েন।
মঙ্গলবার বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তাঁকে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে কলকাতার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গতকাল বুধবার তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
পরিবার ও প্রতিবেশিদের অভিযোগ, এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধের। স্থানীদের অভিযোগ চুঁচুড়া বিধানসভার ২৫ নম্বর বুথ হোসনাবাদের ভোটার ছিলেন বৃদ্ধ। ওই এলাকার কয়েকশ মানুষের নামে ফর্ম সেভেন জমা পড়েছে। নাম বাদ যাওয়ার ভয়ে এলাকার সংখ্যালঘু মানুষরা বিডিও অফিসে বিক্ষোভ করেছেন। সেই আন্দোলনেও ছিলেন ইসমাইল।
হুগলি জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্য প্রাক্তন বিধায়ক মানস মজুমদারের অভিযোগ, 'নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার ভয় দেখাচ্ছে বিজেপি। তাই শেখ ইসমাইলের মতো মানুষদের মৃত্যু হচ্ছে। এর আগেও একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এভাবেই। শুনাঊ ডেকেছিল বৃদ্ধ মানুষকে। তাঁর নামে ফর্ম সেভেন জমা পড়েছিল বলে জানতে পেরে আরও আতঙ্কে পড়ে যান তিনি। জীবিত মানুষকে মৃত বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। এই ঘৃণ্য চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমরা ধিক্কার জানাই।'
প্রসঙ্গত, এসআইআর আতঙ্কে বাংলায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসআইআর আতঙ্কে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে আগরপাড়ায়। প্রদীপ করের মৃত্যুতে প্রতিবেশীরা দাবি করেছিলেন, তাঁর ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। তবুও তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। তাই নিজেকে শেষ করে দেন।
বীরভূমের ইলামবাজারে ক্ষিতীশ মজুমদার (৯৫) এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন বলেও তাঁর পরিবারের অভিযোগ ছিল। পানিহাটির প্রদীপ করের পর প্রাণ হারান পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানার কোরা পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ক্ষিতীশ। বেশ কয়েক মাস আগে বীরভূমে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে ইলামবাজারের স্কুলবাগান সুভাষপল্লীতে স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আতঙ্কই তাঁকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
এরপর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড়ের জয়পুর এলাকার যুবক সফিকুল গাজি (৩৫) এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি। তাঁরা স্ত্রী জানান, গত কয়েক দিন ধরে আতঙ্কে ছিলেন স্বামী। বারবার বলছিলেন, তাঁর কোনও পরিচয়পত্র নেই। ভাই-বাপ কেউ নেই। স্ত্রী বারবার অভয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও গত বুধবার সকালে তিনি নিজেকে শেষ করে দেন।
এই আবহে বহরমপুর থানার অন্তর্গত গান্ধী কলোনী এলাকায় গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন এক ব্যবসায়ী। সেক্ষেত্রেও পরিবাররে দাবি ছিল, আত্মহত্যার কারণ এসআইআর আতঙ্ক। ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় ‘দেশ ছাড়তে হবে’ এই আতঙ্কে গত ৪ নভেম্বর কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হন মুর্শিদাবাদের কান্দির মোহন শেখ (৫৫)।
