আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে বিজেপি সরকারের গঠন এবং শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথের দিনই বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার। মুর্শিদাবাদের বহরমপুর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এক তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি এবং ম্যাগাজিন। এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর জন্য মজুত করা হত বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র। সেই অভিযোগে বহরমপুর থানার পুলিশ ওই তৃণমূল নেতার স্ত্রী টুকু সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বহরমপুরের ওই তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে মোট তিনটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, ৯০ রাউন্ড ৭.৬৫ এমএম পিস্তলের গুলি, ৫০ রাউন্ড নাইন এমএম পিস্তলের গুলি এবং চারটি ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ওই বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলির মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা। টুকু সরকারের দশ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন করে শনিবার তাঁকে বহরমপুর আদালতে পেশ করছে পুলিশ। 

শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার ডিএসপি (ডিঅ্যান্ডটি) সুশান্ত রাজবংশী জানান, "গোপন সূত্রে প্রাপ্ত খবরের ভিত্তিতে শনিবার আমরা বহরমপুর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গির্জাপাড়া এলাকায় অসীম সরকার নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অভিযান চালাই। সেই সময় তার বাড়িতে গোপনে লুকিয়ে রাখা ছিল একটি বালতি। সেই বালতি থেকেই আমরা  ৯ এমএম এবং ৭.৬৫ এমএম বোরের মোট ১৪০ রাউন্ড গুলি, চারটি ম্যাগাজিন এবং তিনটি দেশি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল উদ্ধার করি।"

সুশান্তবাবু জানান, "পুলিশি অভিযানের আভাস পেয়ে ওই বাড়ি থেকে অসীম সরকার এবং তার সঙ্গে আরও একজন পালিয়ে যায়। পরে আমরা ওই ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্ত অসীম সরকারের স্ত্রী টুকু সরকারকে গ্রেপ্তার করেছি। বাড়িতে বেআইনিভাবে আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলি মজুত করে রাখার বিষয়টি সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন।"

ডিএসপি আরও জানান,"টুকু সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আমরা জানতে পেরেছি পুলিশ অভিযান শুরু হওয়ার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত ওই বাড়িতে পাপাই ঘোষ এবং অসীম সরকার উপস্থিত ছিল। কিন্তু তাঁরা গ্রেপ্তারি এড়ানোর জন্য পুলিশকে দেখতে পেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।"

প্রসঙ্গত, পাপাই ঘোষ বর্তমানে বহরমপুর টাউন যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি পদে আসীন। তার বাড়ি বহরমপুর পুরসভার কুঞ্জঘাটা এলাকায়। সূত্রের খবর, অসীম সরকার তৃণমূল নেতা পাপাই ঘোষের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। এ বছরের বিধানসভার নির্বাচনে পাপাই এবং অসীম সরকার দু'জনেই বহরমপুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখার্জির হয়ে প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। 

নির্বাচনের দিন বহরমপুরের কুঞ্জঘাটা এলাকায় একটি বুথে কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীকে জল এবং পাখার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য ভোট মিটতেই একটি পরিবারের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল কিছু দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল পাপাই ঘোষের বিরুদ্ধে। যুব তৃণমূল নেতা পাপাই ঘোষের স্ত্রী সুষমা ঘোষ বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বহরমপুর সংলগ্ন মনীন্দ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পদে রয়েছেন। 

ডিএসপি বলেন,"প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি অসীম সরকার এবং আরও কয়েকজন এলাকায় অশান্তি ছড়ানো এবং কোনও অপরাধ করার জন্য বাড়ির মধ্যে এত পরিমাণ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলি মজুত করে রেখেছিল।"

পাপাই ঘোষের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক বেআইনি কার্যকলাপে জড়িত থাকার জন্য বহরমপুর থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অসীম সরকার এবং তার স্ত্রী  টুকু সরকারের বিরুদ্ধে আগে কোনও অপরাধের মামলা কোনও থানায় রুজু রয়েছে কিনা এখন তা-ই পুলিশ খতিয়ে দেখছে।