গোপাল সাহা: কলকাতা মেডিক্য়াল কলেজে ডঃ বিধান চন্দ্র রায়ের জন্মদিন এবং 'ডক্টরস ডে' পালনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখার্জি। এদিনের অনুষ্ঠানে তিনি এক গুচ্ছ প্রকল্প ঘোষণার পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক ব্যানার্জির 'সেবাশ্রয়' প্রকল্প নিয়ে কটাক্ষ করেন।
আজকাল ডট ইন-এর মুখোমুখি হয়ে শারদ্বত বলেন, "তৃণমূলের কয়লা চুরি, গরু চুরি তো পুরনো হয়ে গেছে। এরা ডাক্তারের এমবিবিএস এমডি ও চুরি করে। অভিষেক ব্যানার্জির সেবাশ্রয়ে কোনও ডাক্তার ছিল না। বেশিরভাগ স্বাস্থ্যকর্মী এবং আয়ুষের কিছু পড়ুয়ারা চিকিৎসক হিসেবে ছিলেন। চিকিৎসার নামে অভিষেক ব্যানার্জির সেবাশ্রয় একটা প্রহসন। ছোটবেলায় ঠাকুরমার ঝুলি পড়েছিলাম, এবার বাংলায় পিসিমার ঝুলি। একে একে বিড়াল বেরিয়ে আসছে। অভিষেক ব্যানার্জির সেবাশ্রয়ে বেশ কিছু আয়ুষ-এর পড়ুয়া চিকিৎসক ছিল বলে কিছুটা উতরে দিয়েছে। কোনও চিকিৎসক ছিল না। চিকিৎসা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাকে এইভাবে অপমান করবেন না। অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এছাড়াও সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, "আমি গর্বিত আমি এই কলেজের ছাত্র ছিলাম। আর এই কলেজ থেকেই পড়াশোনা করেছিলেন ডঃ বিধানচন্দ্র রায়। যিনি বাংলার রূপকার। বহু বছর বাদে আমার কলেজেই আজ এখানে সবার মাঝে আসতে পেরে গর্বিত। আমাদের সরকার মাত্র ৪৫ দিনের সরকার, তার মধ্যেই আমরা ২০০ টিরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস আনতে পেরেছি। রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও আধুনিক করার আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।"
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "রাজ্যে যে কোনও সরকারি হাসপাতালে যে কেউ ভর্তি হতে চাইলেই ভর্তি হতে পারবে না, চিকিৎসক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। চিকিৎসক মনে করলে তবেই সে হাসপাতালে ভর্তি হতে পারবে, অন্যথায় নয়। খতিয়ে দেখা হবে হাসপাতালের সুরক্ষা এবং অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা। একই সঙ্গে দেখা হবে দালাল চক্রের বিষয়টাও।"
শারদ্বত মুখার্জির সংযোজন, "হাসপাতালে যাতে যে কেউ ঢুকতে না পারে, তাই জন্য রোগী ও তার পরিজনের হাতে রিবনের ব্যবস্থা করা হবে। সবুজ ও কমলা রঙের রিবন। সেটা দেখে চিহ্নিত করা হবে কে রোগী এবং তার পরিবার। এছাড়াও স্বাস্থ্য কর্মীদের ও চিকিৎসকদের জন্য থাকবে ফটো যুক্ত আইডি কার্ড। যা খুব শীঘ্রই চালু হবে।'' মন্ত্রী আরও বলেন, "এবার সরকারি কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য পরিষেবার ক্ষেত্র আধুনিকীকরণ করা হবে। সরকারি অন্যান্য আধিকারিক এসডিও বিডিও বা অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের মত চিকিৎসকদেরও দেওয়া হবে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি। যাতে তাদের কর্ম ক্ষেত্রে গিয়ে গাড়ি বা রিকশা কিংবা অটো টোটো খুঁজতে না হয়। তাঁদের মূলত সরকারি অন্যান্য আধিকারিকদের মতো অগ্রাধিকার বা পরিষেবা দিলে তারা নিশ্চিন্তে, স্বস্তিতে কাজটা করতে পারবেন। আর এই পরিকল্পনা খুব শীঘ্রই বাস্তবায়িত করা হবে।"
















