আজকাল ওয়েবডেস্ক: কাটোয়া শহরের স্টেশনবাজার চৌরাস্তায় গান্ধী মূর্তির মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা হয়েছিল। এই গান্ধী মূর্তির অবমাননার ছবি সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় হুলস্থূল। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তদন্ত দাবি করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানালেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে লেখা চিঠিতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি লেখেন, 'জাতির পিতা গান্ধীজির মূর্তিতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা কালো কাপড় দিয়ে মুড়ে দিয়েছে। সেটা মহাত্মা গান্ধীর প্রতি চরম অপমান। এই ঘটনা সমগ্র জাতি এবং দেশকে চরমভাবে হেয় করেছে। পূর্ব বর্ধমান জেলায় ঘটনাটি ঘটেছে। আমি আশা করি, আপনি এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ সমর্থন করবেন না এবং এই জঘন্য ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবেন।'

ঘটনা জানাজানি হতেই কাটোয়া থানার পুলিশ এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করে। কে বা কারা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তা দেখা হচ্ছে।

বুধবার সকালে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির মুখে কালো কাপড় জড়িয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা কাটোয়া স্টেশন বাজার চৌরাস্তা সংলগ্ন এলাকায়। দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষে (১৯৯৮ সাল) কাটোয়া পুরসভার উদ্যোগে এই গান্ধী মূর্তির প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। মহাত্মার ডান্ডি অভিযানের আদলে এই মূর্তি তৈরি করা হয়।

নক্কারজনক ওই দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়েই কাটোয়া নগর বিজেপির সভাপতি সুমন দেবনাথের নেতৃত্বে দলীয় কর্মী-সমর্থক এবং ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। মূর্তির এই অবমাননার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপি নেতা সুমন দেবনাথ বলেন, “এই ধরনের কুরুচিকর ও বিকৃত মানসিকতা পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের সংস্কৃতি হতে পারে না। যারা এই কাজ করেছে, তাদের মন যে কতটা কলুষিত, তা এই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট।” 

বিক্ষোভের মাঝেই স্থানীয় বাসিন্দা ও আন্দোলনকারীরা উদ্যোগী হয়ে গান্ধীজির মূর্তির মুখ থেকে কালো কাপড়টি সরিয়ে ফেলেন। এরপর সম্পূর্ণ সনাতন রীতি মেনে প্রথমে গঙ্গাজল এবং পরে দুধ দিয়ে মূর্তিটি স্নান করিয়ে শুদ্ধিকরণ করা হয়। শেষে ধূপকাঠি জ্বালিয়ে এবং গলায় মালা দিয়ে জাতির জনককে শ্রদ্ধা জানান উপস্থিত জনতা।