আজকাল ওয়েবডেস্ক: জনমানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদা ও দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে রাজ্যের গণপরিবহণ ব্যবস্থায় এক বড়সড় বদল আনতে চলেছে পরিবহণ দপ্তর। সম্প্রতি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতা দরবারে বেশ কয়েকজন নাগরিক নিউটাউনের টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারে (যা সাধারণ মানুষের কাছে টাটা ক্যান্সার হাসপাতাল নামে পরিচিত) যাতায়াতের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগী ও তাঁদের পরিবারের এই চরম অসুবিধার কথা বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

নাগরিকদের সেই আর্জিতে সাড়া দিয়ে এবার তৎপর হলেন মাননীয় পরিবহণ মন্ত্রী। হাসপাতালমুখী যাত্রীদের যাতায়াত আরও সুগম করতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার পর্যন্ত মোট ৪টি নতুন বাস রুট মঞ্জুর করা হয়েছে, যেখানে নামানো হচ্ছে ১৮টি নতুন বাস। পরিবহণ মন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এই বাসগুলি যেন নির্দিষ্ট সময় ও অনুমোদিত রুট মেনেই চলাচল করে এবং এ বিষয়ে কর্তাদের আরও নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। প্রশাসন যে আমজনতার প্রয়োজন মেটাতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এই সিদ্ধান্ত তারই প্রমাণ।

এর পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকার নিত্যযাত্রীদের জন্য আরও ২টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে বাস চলাচলের সবুজ সংকেত দিয়েছে পরিবহণ দপ্তর। এর মধ্যে একটি হল সম্পূর্ণ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ‘রুট AC-57’। এই এসি বাসটি বড় জাগুলিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে কল্যাণী এইমস (AIIMS), ওয়্যারলেস মোড়, মুরাগাছা এবং এয়ারপোর্ট ১ নম্বর গেট হয়ে সল্টলেকের সেক্টর-৫ কলেজ মোড় পর্যন্ত চলাচল করবে। আইটি কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রীদের জন্য এটি অত্যন্ত আরামদায়ক সফর হতে চলেছে।

অন্য রুটটি হল ‘রুট S-7’, যা কাঁচড়াপাড়া (গান্ধী মোড়) থেকে হালিসহর কোনা, কাঁকিনাড়া, শ্যামনগর ও ইছাপুর ঘোষপাড়া রোড হয়ে বারাকপুরের সদর বাজার পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন করবে। শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন এই ব্যস্ততম রুটে নতুন বাস চালু হওয়ায় প্রতিদিনের অফিসযাত্রী ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই এই সমস্ত রুটে নতুন বাসগুলি সরকারিভাবে পথ চলা শুরু করবে।