আজকাল ওয়েবডেস্ক: মালদার চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে অবিশ্বাস্য অবহেলার ঘটনা। আড়াই বছরের এক ছোট্ট শিশুর হাতের বুড়ো আঙুল গুরুতরভাবে জখম হয় সাফাইকর্মীর কাঁচিতে। আড়াই বছরের শিশুর স্যালাইনের ব্যান্ডেজ খুলতে গিয়েব এই গাফিলতি হয়। 

গত ২৬ জুন (শুক্রবার) শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল মালদহের চাঁচলের শিশুটি। চিকিৎসকের পরামর্শে তার বাঁ হাতে স্যালাইন চলছিল। পরের মঙ্গলবার সকালে শিশুটি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তখনই ঘটে বিপর্যয়। পরিবারের অভিযোগ, প্রশিক্ষিত নার্স না এসে সাফাইকর্মী উজ্জ্বল কুমার সাহা এসে স্যালাইনের চ্যানেল খুলতে গিয়ে কাঁচির আঘাতে শিশুর বুড়ো আঙুল কেটে ফেলে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ না থাকায় এই মর্মান্তিক ভুল হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। 

আরও অভিযোগ যে, ঘটনার সময় ওয়ার্ডের নার্স চেয়ারে বসে মোবাইল ফোন দেখছিলেন, কিন্তু কোনও সাহায্য করেননি। উল্টে পরিবারের সদস্যদের ধমক দিয়েছেন। ঘটনার পর হাসপাতালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিশুর পরিবার চাঁচল হাসপাতাল সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। এবং চাঁচল থানায়ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। 

চাঁচল হাসপাতালের সুপার সুমিত তালুকদার শিশুটিকে দেখতে গিয়ে স্বীকার করেছেন যে, স্যালাইনের চ্যানেল খোলা নার্সের কাজ। তিনি নিজেই তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। 

মালদহ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য দপ্তর রিপোর্ট তলব করেছে এবং তদন্ত চলছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে সাসপেন্ড করা হয়নি। শিশুটি এখন চিকিৎসাধীন রয়েছে। তদন্ত চলছে। যে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে সেই রিপোর্টগুলি এলে আরও বিষয়টা স্পষ্ট হবে, কীভাবে এই ঘটনা ঘটলো। 

এই বিষয়ে রাজ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখার্জি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, "হ্যাঁ আমি বিষয়টি শুনেছি। পুরো ঘটনার রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে। রিপোর্ট আসলে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে।" 

এই ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, সরকারি হাসপাতালে শিশুর চিকিৎসায় সাধারণ স্বাস্থ্যকর্মী কেন হাত লাগাবেন? এইজন্য হাসপাতালের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নার্স রয়েছেন। কর্তৃব্যরত নার্স কোথায় ছিলেন?