আজকাল ওয়েবডেস্ক: পর পর দু'দিন মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় রেল অবরোধের জেরে শিয়ালদা-লালগোলা শাখায় পূর্ব রেলের যাত্রী পরিষেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিহারে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নির্যাতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার বেলডাঙা স্টেশনের পাঁচড়াহার মোড়ের কাছে ট্রেন লাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় উত্তেজিত জনতা। অভিযোগ উঠেছে সেই সময়ে রেলের কিছু সম্পত্তিও ভাঙচুর করেছে বিক্ষোভকারীরা। 
 
আর তারপরই পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণ এবং মেরামতির কারণে আপাতত কৃষ্ণনগর-লালগোলা শাখায় ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হচ্ছে। পূর্ব রেল সুত্রে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কৃষ্ণনগর থেকে লালগোলার মধ্যে আপাতত কোনও যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করবে না। ট্রেন চলাচল কবে স্বাভাবিক হবে রেলের পক্ষ থেকে আপাতত কিছু জানানো হয়নি। 

বিহারের ছাপরা জেলায় পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ফেরিওয়ালার কাজ করতে যাওয়া মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার কয়েকজন যুবককে সম্প্রতি সেখানে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে  শনিবার সকাল থেকে বেলডাঙার বড়ুয়া মোড়ের কাছে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। এরপর সেই অবরোধ ছড়িয়ে পড়ে বেলডাঙা স্টেশন সংলগ্ন পাঁচড়াহার মোড়ের কাছে। বিক্ষোভ চলার সময় একটি রেলগেট ভাঙার অভিযোগ উঠেছে উত্তেজিত জনতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে বিক্ষোভ চলার সময় তারা রেলের আরও কিছু সম্পত্তি এবং সিগন্যাল পোস্টেও ভাঙচুর চালিয়েছে। পরে পুলিশ লাঠি চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। 

পূর্ব রেল সূত্রে খবর, বেলডাঙা এলাকায় হঠাৎ করে বিক্ষোভের কারণে শনিবার কলকাতা-সাইরাং এক্সপ্রেস ট্রেন কৃষ্ণনগর স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে পড়ে। বেলডাঙা স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেলের সম্পত্তি ভাঙচুর করার কারণে ট্রেনটি মুর্শিদাবাদে তার নির্ধারিত পথ দিয়ে আজ যেতে পারেনি। এর পাশাপাশি  শিয়ালদা-লালগোলা শাখায় বিভিন্ন স্টেশনে আজ একাধিক ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ে। দুর্ভোগে পড়েন অসংখ্য যাত্রী। 

ঝাড়খন্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবারও বেলডাঙা স্টেশন সংলগ্ন এলাকা এবং রাস্তায় ব্যাপক বিক্ষোভ দেখানো হয়। প্রায় ৭ ঘন্টা অবরুদ্ধ হয়ে থাকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং  ট্রেন চলাচল। পরপর দু'দিন একই ঘটনা ঘটায় রেলের তরফ থেকে  ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। 

এর পাশাপাশি রেলের সম্পত্তি রক্ষার জন্য কলকাতা থেকে অতিরিক্ত আরপিএফ জওয়ান মুর্শিদাবাদ জেলায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ। 
অন্যদিকে শনিবার বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার সুপার কুমার সানী রাজ বলেন,"বিভিন্ন এলাকায় এখনও তল্লাশি চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাকি অভিযুক্তদের খোঁজার চেষ্টা চলছে। আমরা কোনওরকম অশান্তি বরদাস্ত করব না।"

প্রসঙ্গত এর আগে সিএএ এবং এনআরসি নিয়ে রাজ্য জুড়ে আন্দোলনের সময় মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন রেল স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর সঙ্গে একাধিক ট্রেন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল।  সেই সময়ও দীর্ঘদিন মুর্শিদাবাদ জেলায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়েছিল। ফের নতুন করে বেলডাঙায় অশান্তির জন্য কৃষ্ণনগর থেকে লালগোলার মধ্যে ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ায় অসুবিধার মধ্যে পড়তে চলেছেন মুর্শিদাবাদ জেলার হাজার হাজার যাত্রী। 

শিয়ালদা-লালগোলা শাখার  কৃষ্ণনগর থেকে লালগোলার মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন রয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে প্রত্যেকদিন প্রচুর বাসিন্দা চিকিৎসা, ব্যবসা এবং সরকারি কাজের জন্য ট্রেনে করেই কলকাতা যান। ফের কবে ট্রেন চালু হবে এই নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা।  
রেলের এই সিদ্ধান্তকে 'হঠকারী' বলে অভিহিত করে তৃণমূল কংগ্রেসের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন,"বাংলার এবং মুর্শিদাবাদ জেলার মানুষের সঙ্গে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য মোদি এবং অমিত শাহ এই ধরণের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।"