আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'নাগরিকদের ভোটাধিকার, এই আমাদের অঙ্গীকার', মূলত এই স্লোগানকে সামনে রেখেই, দোল পেরোতেই পথে নামছে রাজ্যের শাসক দল। তৃণমূলের বক্তব্য, এসআইআর-এর মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যার প্রতিবাদ এবং বাংলার বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে  নেওয়ার চক্রান্তের বিরোধিতায়, এই ধর্না অবস্থান। 

 

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেছিলেন, দলের সুপ্রিমো শুক্রবার অর্থাৎ ৬ মার্চ মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসবেন। তবে কেবল ঘোষণা নয়, ওই ধর্নায় মমতার পাশেই থাকবেন অভিষেক। দলীয় সূত্রের খবর তেমনটাই। জানা গিয়েছে, শুক্রবার মেট্রো চ্যানেলে, ধর্না মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন দু'জনেই। 

 

এসআইআর প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, বঙ্গে এসআইআরের শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ এনেছে তৃণমূল। রাজ্যে যে এই প্রক্রিয়া সঠিক ভাবে হচ্ছে না সেই অভিযোগ আনা হয়েছে। দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুূমারের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন মমতা এবং অভিষেক। অন্যদিকে, শনিবার রাজ্যে এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ্যে এসেছে।

 

তারপরেই রবিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন অভিষেক ব্যানার্জি। সেখান থেকে তিনি জানান, আগামী ৬ মার্চ অর্থাৎ শুক্রবার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসবেন মমতা ব্যানার্জি। সেখান থেকে তিনি পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

অভিষেক বলেন, '৬ তারিখ মেট্রো চ্যানেলে মমতা ব্যানার্জি নিজে এই নিয়ে দুপুর দুটো থেকে অবস্থান বিক্ষোভ ও ধর্নায় বসবেন। তারপর পরবর্তী কর্মসূচি তিনি ঘোষণা করবেন।'

অর্থাৎ, ধর্মতলা ইস্ট মেট্টো চ্যানেল যেখানে মুখ্যমন্ত্রী অনশন করেছিলেন সেই একই জায়গায় শুক্রবার থেকে ধর্নায় বসতে চলেছেন তিনি।

শহর কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে তৃণমূল নেতৃত্বদের ধর্নামঞ্চে আসার আহ্বান জানান অভিষেক। এদিন তিনি বলেন, 'তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতৃত্বরা উপস্থিত থাকবেন। দূর থেকে যাঁরা আসেন তাঁদের আমি এখনই আসতে বলব না। এসআইআর চলছে, আগামী ১০-১৫ দিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। কলকাতা এবং আশেপাশের এলাকা থেকে সকলে আসুন তবে নিজের এলাকা সামলে।'

রবিবার তৃণমূলের সাংবাদিক বৈঠকে একটি ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়। তারপরই অভিষেক দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য বিজেপি আগে থেকেই লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছিল।

তাঁর অভিযোগ, বিজেপি নেতাদের মুখে বহুবার ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদের একটি হিসাব বার বার শোনা যায়। খসড়া তালিকা, চূড়ান্ত তালিকা এবং বিচারাধীন তালিকার পরিসংখ্যান যোগ করলে ঠিক ওই সংখ্যার ভোটারদেরই তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার "ষড়যন্ত্র" করা হয়েছে।