মিল্টন সেন, হুগলি: নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। শুনানিতে ডাকা হয়েছে অসংখ্য মানুষকে। ছাড়া হয়নি তিন বারের পঞ্চায়েত সদস্য, সরকারি কর্মচারী, বিএলও হিসাবে কাজ করেছেন এমন মানুষদেরও। সঙ্গে সাধারণ মানুষ তো আছেনই, বিশেষ করে যাঁদের তথ্য সঠিক, অথচ তথ্যগত অসংগতির কারণ দেখিয়ে ডাকা হয়েছিল শুনানিতে।
এসআইআর তালিকায় নাম বাদ পড়েছে অনেক বৈধ ভোটারের। নাম বাদ পড়েছে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে। অথচ নাম বাদ পড়ার পেছনে কোনও লজিকই বোধগম্য হচ্ছে না ভোটারদের। তাই চক্রান্তের অভিযোগে সরগরম দেবানন্দপুর। দেবানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অনেক ভোটারের নামেই ডিলিট স্ট্যাম্প পড়ে গেছে। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে তাঁদের দাবি, যা যা তথ্য চাওয়া হয়েছিল, সেই সব তথ্য জমা দেওয়া হয়েছে। অথচ তার পরেও দেখা যাচ্ছে নাম বাদ পড়েছে।
এটা হলো কী ভাবে। এসআইআর এর কাজে নিযুক্তরা ঠিকমতো কাজ করেছেন তো? সেটা নিয়েও প্রশ্ন তাঁদের মনে। নাম বাদ পড়েছে দেবানন্দপুরের বাসিন্দা বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মী গণেশ দাসের। গনেশ বাবু জানিয়েছেন, লিস্ট দেখার পর তিনি অবাক। বিষয়টি তিনি নির্বাচন কমিশনে জানিয়েছেন। তাঁকে মহকুমা শাসক দপ্তরে যেতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তাঁর কাছে এত সময় কোথায়। আর তিনি এসব করবেনই বা কেন।
কারণ তিনি একজন বৈধ ভোটার। তাঁর বাড়ির সকলের নাম আছে ভোটার তালিকায়, শুধু তাঁর নাম নেই। দীর্ঘ সময় বিএলও হিসেবে কাজ করেছেন স্থানীয় সুজাতা বিশ্বাস। এদিন তিনি অভিযোগ তুলেছেন আগে যখন বিএলও হিসাবে তিনি কাজ করতেন, তখন মৃতদের নাম বাদ দেওয়ার একাধিক আর্জি জানিয়ে লাভ হয়নি। সেই নাম রয়েই গেছে তালিকায়। অথচ বর্তমানে তিনি জীবিত, কিন্তু নাম বাদ চলে গেছে।
স্থানীয় শুক্লা চক্রবর্তী জানিয়েছেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি পরিবারের সঙ্গে দেবানন্দপুরে থাকেন। তালিকায় তার স্বামী ছেলের নাম রয়েছে, কিন্তু তার নাম বাদ পড়েছে।
তালিকায় নাম নেই দেবানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য মহেশ রাজভরের।তার নামও বাদ গেছে। তিনি বলেছেন, "আমি তিনবার মনোনয়ন জমা দিয়ে নির্বাচিত হয়েছি। তাদের কাছে সমস্ত তথ্য আমার আছে। শুনানিতে ডাকার পরও তাই ভরসা ছিল আমার নাম বাদ যাবে না। অথচ হয়েছে ঠিক উল্টোটাই।"
এই প্রসঙ্গে দেবানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান পীযূষ ধর বলেছেন, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। পঞ্চায়েতে প্রায় ৪ হাজার মানুষের শুনানি হয়েছে। তার মধ্যে অনেকেরই নাম বাদ গেছে। এসআইআর-এর কাজে যাঁরা নিযুক্ত ছিলেন তাঁরা ঠিক মতো কাজ করেননি। আবার নতুন করে ছয় নম্বর ফর্ম পূরণ করার কাজ চলছে। একইসঙ্গে চলছে এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে লড়াই। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় কাজ করছেন। এটা রাজনৈতিক চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই না। আর ফলে সাধারণ মানুষ হয়রান হচ্ছে।
একই অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ। তিনি বলেছেন, যাঁরা নির্বাচন কমিশনের কাজে নিযুক্ত ছিলেন বা এইআরও বা অন্যরা, তাঁরা ঠিক মতো কাজ করেননি। তাইতো সুপ্রিম কোর্ট এসআইআর এর কাজে বিচারপতিদের নিযুক্ত করেছে।
ছবি: পার্থ রাহা
