আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আঙিনায় বড়সড় রদবদল। নদীয়া জেলার হরিণঘাটা থানার অন্তর্গত বিরোহী ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৩২ নম্বর বুথ সোনাখালি পাঁচপুকুরিয়া পাড়ায় শাসক দল তৃণমূল এবং বিজেপি ছেড়ে প্রায় ২০০টি পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে সিপিআইএম (CPIM) দলে যোগদান করেছে। এর ফলে এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিন পাঁচপুকুরিয়া পাড়ায় একটি বর্ণাঢ্য যোগদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়, যেখানে তৃণমূল ও বিজেপি ছেড়ে আসা সাধারণ মানুষ ও কর্মীরা সিপিআইএম-এর লাল ঝাণ্ডা হাতে তুলে নেন। অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত কর্মীদের মধ্যে চরম উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। জানা গেছে, এই বড়সড় দলবদলের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন ওই বুথেরই তৃণমূল সদস্য কামালউদ্দিন মণ্ডল ওরফে কামু। লাল ঝাণ্ডা হাতে তুলে নিয়ে নবাগত কর্মীরা শাসক দলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের দাবি, বর্তমান শাসক দলের অসাধু কার্যকলাপ ও দুর্নীতির কারণেই তাঁরা দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা ও নবীন সিপিআইএম কর্মী তালেব জানান, তিনি বহু বছর ধরে তৃণমূলের সাথে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু এই দলটা এখন চোরদের পার্টিতে পরিণত হয়েছে, এরা গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ায় না এবং এদের শুধু টাকার ধান্দা। তাই তিনি তৃণমূল ছেড়ে সিপিআইএম-এ চলে এসেছেন এবং এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট।
যোগদানকারী কর্মীদের স্বাগত জানিয়ে হরিণঘাটা এরিয়া কমিটির সদস্য শিবেন দেবনাথ বলেন, বিরোহী ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৩২ নম্বর বুথ পাঁচপুকুরিয়াতে সিপিআইএম-এর পক্ষ থেকে এই যোগদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। এলাকার সাধারণ মানুষ বুঝতে পেরেছে যে তৃণমূল আর বিজেপি আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। মানুষ তৃণমূলের দুর্নীতিতে যেমন বীতশ্রদ্ধ, তেমনই বিজেপির প্রতিও আস্থা হারাচ্ছে। তাই বিকল্প হিসেবে মানুষ বামপন্থা ও সিপিআইএম-কেই বেছে নিচ্ছে। এই দলবদলের ফলে নদীয়ার হরিণঘাটায় সিপিআইএম-এর সংগঠন আরও শক্তিশালী হলো বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সকলের জন্য একটি সান্ধ্যকালীন ভোজের আয়োজনও করা হয়েছিল।















