আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধাননগর পুরসভার নিউটাউন এলাকার কাউন্সিলর তথা ধৃত তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদ যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে তাঁর আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তি সংক্রান্ত নতুন নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) সূত্রে দাবি, দেবরাজের বিপুল পরিমাণ কালো টাকা এবং হিসাববহির্ভূত সম্পত্তির খোঁজ মেলায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হচ্ছে।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের খবর, দেবরাজের বাড়ি ও ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিস মিলেছিল। তবে এই অ্যাকাউন্টগুলিতে বর্তমানে তেমন কোনও টাকা পাওয়া না গেলেও, গত মে মাসে লোকসভা ভোটের আগে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার একটি বড় লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। সিটের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে ভোটের আগে ও পরে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি আর্থিক লেনদেনের হদিস মিলেছে।
তদন্তকারীদের নজরে এসেছে যে, এপ্রিল মাসে দফায় দফায় ভোট এবং ৪ঠা মে ফল ঘোষণার পরেও দেবরাজের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকা কোথা থেকে এল, কোথায় পাঠানো হল এবং এর আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখতে গতকাল রাতেও দেবরাজকে টানা তিন ঘণ্টা জেরা করেন সিটের আধিকারিকরা। তদন্তকারীদের অনুমান, সমস্ত নথিপত্র ও অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণ শেষ হলে এই লেনদেনের প্রকৃত অঙ্ক আরও অনেকটাই বাড়তে পারে।
তবে এই তদন্তে একটি বিষয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে আধিকারিকদের মনে। দেবরাজ চক্রবর্তীর অ্যাকাউন্ট থেকে কালো টাকার লেনদেনের হদিস মিললেও, তাঁর স্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির অ্যাকাউন্ট থেকে এখনও পর্যন্ত এই ধরনের কোনও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অদিতি মুন্সির অ্যাকাউন্টে কেন কোনও গড়মিল মিলছে না, সেই রহস্য উদ্ঘাটনেও তদন্ত জোরদার করছেন আধিকারিকরা।
আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি দেবরাজের সম্পত্তি খতিয়ে দেখেও চোখ কপালে উঠেছে তদন্তকারীদের। সিট সূত্রের দাবি, প্রাথমিক পর্যায়েই দেবরাজ চক্রবর্তীর প্রায় ২০০ কোটিরও বেশি মূল্যের সম্পত্তি চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রবল সন্দেহ, এই বিপুল সম্পত্তির একটি বড় অংশই কালো টাকার মাধ্যমে কেনা হয়েছে। বিশেষ করে কালো টাকায় প্রচুর জমি কেনা হয়েছিল বলে তথ্য মিলেছে। উদ্ধার হওয়া নথিপত্র এবং দেবরাজের বয়ানের ওপর ভিত্তি করে তদন্তের জাল আরও ছড়াচ্ছে সিট। আধিকারিকদের বক্তব্য, আরও নথি ও আর্থিক তথ্য খতিয়ে দেখার পর দেবরাজের সম্পত্তি এবং অবৈধ লেনদেনের পরিমাণ আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।















