আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। রাজ্য সরকারের চালকের আসনে এখন বিজেপি। আর এই ক্ষমতার হাতবদলের পরেই রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পদত্যাগের হিড়িক দেখা গিয়েছে। যার প্রভাব পড়ল নন্দীগ্রামেও। এবার গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যপদ থেকে ইস্তফার আবেদন করলেন নন্দীগ্রামের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী পবিত্র কর ও তাঁর স্ত্রী শিউলি কর। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে নন্দীগ্রাম -২ ব্লকের বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১২ নম্বর বুথে বিজেপির টিকিটে জয়লাভ করেছিলেন পবিত্র। শারিরীক অসুস্থার কারন জানিয়ে গত ১৫ ই মে বিডিও'র কাছে সদস্য পদ থেকে ইস্তফা চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন। 

পাশাপাশি, একই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ৭ নম্বর বুথ থেকে বিজেপির টিকিটে জয়লাভ করেন তাঁর স্ত্রী শিউলি কর। তিনিও অসুস্থার কথা জানিয়ে গত ১৫ই মে সদস্য পদ থেকে ইস্তফার আবেদন জানিয়েছেন। দু'জনেরই আবেদন গ্রহন করা হয়েছে নন্দীগ্রাম -২ ব্লকের পক্ষ থেকে। আইন অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে বলে দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিজেপির টিকিটে জয়লাভের পর বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের পদে ছিলেন শিউলি কর এবং সদস্য হিসাবে ছিলেন তাঁর স্বামী পবিত্র কর। তবে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগের মুহুর্তে বিজেপি ছেড়ে তিনি তৃণমূলে যোগদান করলেও সদস্যপদ ছাড়েননি। বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হন। পরাজয়ের পর স্বামী ও স্ত্রী দুজনেই নিজেদের অসুস্থতার কথা জানিয়ে সদস্যপদ ছাড়ার আবেদন জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, আমিও তৃণমূলে ছিলাম। কিন্তু দলের সমস্ত পদ ছেড়ে তারপর বিজেপিতে যোগদান করি। কিন্তু আমার বিপরীতে যিনি দাঁড়িয়েছেন তিনি এখনও বিজেপির সদস্যপদ ছাড়েননি। নির্বাচন বিধি অনুসারে ওঁর প্রার্থীপদ বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু আমরা অভিযোগ করিনি।"