আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২৯ এপ্রিল, দ্বিতীয় দফায় ভোট হয়েছিল ফলতায়। কিন্তু সেই ভোটে একাধিক অভিযোগ ওঠে। পুনর্নিবাচনের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। সেই পুনর্নিবাচন হল ২১ মে। কমিশনের তথ্য, ফলতায় ভোট পড়েছে ৮৭.৮৮ শতাংশ। 

 

পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক খোলনলচে বদলে যাওয়ার আবহে আজ, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে শুরু হয় বহুল চর্চিত পুনর্নির্বাচন। গত ২৯শে এপ্রিলের প্রথম দফার ভোটে বুথ জ্যাম ও ইভিএম বিকৃতির একগুচ্ছ অভিযোগ ওঠার পর, কমিশন কড়া পদক্ষেপ করে এই কেন্দ্রের সমস্ত বুথেই নতুন করে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই মতো আজ সকাল সাতটা থেকে কড়া সুরক্ষাবলয়ের মধ্যে শুরু হয়েছে ভোটদান প্রক্রিয়া, যা চলবে সন্ধে ছ’টা পর্যন্ত।

ভোর থেকেই গ্রামীণ ও শহরের বুথগুলিতে ভোটারদের লম্বা লাইন চোখে পড়েছিল। তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখে দুপুরের আগেই ভোট সেরে নিতে প্রবীণ নাগরিক থেকে শুরু করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব উৎসাহ দেখা যায়। এবারের পুনর্নির্বাচনে ফলতা কেন্দ্রের মোট ২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৪৪ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ২১ হাজার ৩০০ জন, মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ১৫ হাজার ১৩৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৯ জন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে ভোটারদের সুবিধার্থে প্রতিটি কেন্দ্রে পানীয় জল, ওআরএস, বিশ্রামের জায়গা এবং অসুস্থ বা প্রবীণদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবার প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নেয়নি। গোটা ফলতাকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলে মোট ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রতি বুথের ভেতরে ও বাইরে কড়া প্রহরায় রয়েছে এক সেকশন করে কেন্দ্রীয় জওয়ান। এছাড়া ২৮৫টি বুথেই ওয়েব কাস্টিং এবং সিসিটিভি-র মাধ্যমে সরাসরি নজরদারি চালাচ্ছে কমিশন। যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি চোখের নিমেষে রুখে দিতে বুথের বাইরে চষে বেড়াচ্ছে ৩৫টি কুইক রেসপন্স টিম (QRT)। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত কোথাও কোনও বড় ধরণের অশান্তি বা রিগিংয়ের খবর মেলেনি। দিনের শেষে, সেই ফলতায় ভোট পড়েছে ৮৭.৮৮ শতাংশ।