আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিঘায় বেড়াতে এসে অস্বাভাবিক মৃত্যু হল এক পর্যটক মহিলার। মৃতার নাম ঝরনা পৈলান (২৭)। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে দিঘা থানার পুলিশ। ধৃতদের বৃহস্পতিবার কাঁথি আদালতে তোলা হয়।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা হল সোল্লা বিবি, রহিমউদ্দিন গাজী এবং এমডি খইরুল। জানা যায়, ঝরনা পৈলান দীর্ঘদিন ধরে স্বামী পরিত্যক্তা ছিলেন। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে বর্তমান। স্বামী পরিত্যক্তা হওয়ার পর তিনি বাবার বাড়িতেই থাকতেন এবং কর্মসূত্রে মুম্বইয়ে আয়ার কাজ করতেন।


কয়েকদিন আগে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এরপর তারা তাঁকে দিঘায় বেড়াতে নিয়ে আসে। বুধবার হোটেলে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে হোটেল কর্মীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

 

ধৃতদের দাবি, একসঙ্গে বসে মদ্যপান করার সময় অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলেই এই ঘটনা ঘটে। তবে মৃতার পরিবারের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত খুন। মৃতার দাদা সৌমেন কুইল্লা বলেন, “আমার বোনকে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে। আমরা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছি।”
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। আপাতত ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় পুলিশ ও মৃতার পরিবার।

 

প্রসঙ্গত, সোমবার রাতে নিউ দিঘার একটি হোটেলের বাথরুম থেকে পর্যটকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের নাম দিলীপ সরকার (২৮)। বাড়ি নদিয়া জেলার কোতোয়ালি থানা এলাকার সুভাষনগরে। সোমবার সকালে ৫৫ জনের একটি দল দিঘায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেদিন দু-তিন জন বন্ধুর সঙ্গে একটি ঘরে ছিলেন দিলীপ। তাঁর বন্ধুরা বাইরে যাওয়ার কথা বললেও শরীর খারাপের কথা বলে ওই যুবক হোটেলে থেকে যান। রাত আটটা নাগাদ বন্ধুরা ফিরে এসে দেখেন ঘরে নেই দিলীপ। তবে বাথরুমের দরজা ভিতর থেকে লাগানো।  হোটেলকর্মীদের ডাকা হয়। তাঁরা দরজা ভাঙতেই চমকে যান। দেখা যায় শৌচাগারের মধ্যে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছেন ওই যুবক। তড়িঘড়ি তাঁকে নামানো হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে শাওয়ারের পাইপের সঙ্গে গামছা বেঁধে আত্মহননের পথ বেছে নেয় দিলীপ। ওই যুবকের আত্মীয়রা এদিন দিঘায় যান।

 

মৃতের পরিজনার জানিয়েছেন কয়েক দিন ধরে দিলীপ অবসাদে ভুগছিল। বন্ধুদের  সঙ্গে বাইরে কোথাও বেড়াতে গেলে মন ভাল থাকবে। এই আশায় তারা ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন।  বেড়াতে এসে এমন কাণ্ড যে সে ঘটিয়ে দিতে পারে তা আঁচ করতে পারেনি দিলীপের পরিবার। তবে এই ঘটনায় দিলীপের বন্ধুদের কোনও দোষ দেখেনি তারা।  মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর দিঘা থানার ওসি বাসুকিনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মানসিক অবসাদে ওই যুবক আত্মহত্যা করে। এর পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগে দিঘার একটি হোটেলে এক পর্যটকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। পরপর এমন ঘটনায় হোটেলগুলির নজরদারি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।