আজকাল ওয়েবডেস্ক: ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে যতগুলো বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে তার মধ্যে ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সবথেকে ভালো ফলাফল করেছে বিজেপি। এবার মুর্শিদাবাদ জেলার আটটি আসন- বহরমপুর, বেলডাঙা, জঙ্গিপুর, মুর্শিদাবাদ, খড়গ্রাম, বড়ঞাঁ, নবগ্রাম এবং কান্দি আসন থেকে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা।
আগামী শনিবার কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে শপথ নিতে চলেছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার বিকালে কলকাতায় বিজেপি দলের পরিষদীয় বৈঠকে ঠিক হবে রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম। কিন্তু তার আগে মুর্শিদাবাদ জেলার বিজেপির কার্যকর্তাদের মধ্যে থেকে জোরালো দাবি উঠেছে এই জেলায় ভালো ফলাফল হওয়ায় এখান থেকে কমপক্ষে দু'জনকে মুখ্যমন্ত্রীর ক্যাবিনেটে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীত্ব দিতে হবে।
নবাবী আমলে বাংলা-বিহার-ওড়িশার রাজধানী মুর্শিদাবাদ ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। কৃষি-হস্তশিল্প এবং পর্যটনের জন্য বিখ্যাত এই জেলার খুব বেশি জনপ্রতিনিধি রাজ্যে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদ পাননি।
স্বাধীনতা উত্তর কালে লালগোলা কেন্দ্রের কংগ্রেস বিধায়ক আব্দুস সাত্তার সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের মন্ত্রিসভায় কৃষি আইন দপ্তরের মন্ত্রী হিসাবে মুর্শিদাবাদ জেলার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর সুব্রত সাহা পিডব্লিউডি দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তীকালে তাঁকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
২০২১ সালে তৃণমূল সরকার তৃতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর সুব্রত সাহা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং হর্টিকালচার দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিলেন। এর পাশাপাশি মমতা ব্যানার্জির মন্ত্রিসভায় মুর্শিদাবাদ থেকে হুমায়ুন কবীর এবং আখরুজ্জামানও রাষ্ট্রমন্ত্রী ভূমিকা পালন করেছেন। তবে তাঁদের কারোরই খুব বেশি ক্ষমতা ছিল না।
১৯৭৭ সালের পর এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্র এবং রাজ্যে একই সরকার রয়েছে। তার ফলে সাধারণ মানুষ আশায় বুক বেঁধেছেন রাজ্যের উন্নয়ন গতি পাবে। 'পরিযায়ী শ্রমিকের জেলা'র তকমা ঘোচানোর জন্য মুর্শিদাবাদ জেলাবাসী আশা করছেন এবার এই জেলা থেকে একাধিক বিজেপি বিধায়ক রাজ্য মন্ত্রীসভায় স্থান পাবেন এবং তাঁদের হাত ধরেই জেলায় শিল্প এবং অন্যান্য পরিকাঠামো ক্ষেত্রে উন্নয়ন হবে। এর ফলে জেলাতেই কাজ পাবেন শিক্ষিত যুবকেরা।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলায় বহরমপুর এবং মুর্শিদাবাদ এই দু'টি কেন্দ্র থেকে জয় পেয়েছিল বিজেপি প্রার্থীরা। এবারের নির্বাচনে এই দু'টি কেন্দ্র ছাড়াও আরও ছ'টি নতুন কেন্দ্র তাতে যোগ হয়েছে।
মুর্শিদাবাদ জেলা বিজেপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, "রাজ্যের মানুষ তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের পতন চেয়েছিলো। আমাদের দলের নেতারাও সাধারণ মানুষের এই ভাবনাকে মর্যাদা দিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে ভোট প্রচারে করেছিল। মানুষের আশীর্বাদে এবারের নির্বাচনে বিজেপি সবথেকে ভালো ফলাফল করেছে। মুর্শিদাবাদ জেলাতেও যেহেতু বিজেপি খুব ভালো ফলাফল করেছে তাই আমরা সকলেই আশাবাদী আমাদের জেলা থেকে একাধিক বিধায়ককে মন্ত্রীসভায় স্থান দেওয়া হবে।"
বিজেপি সূত্রের খবর, রাজ্যে বিজেপির 'সুসময়' শুরু হবার বহু আগে থেকেই মুর্শিদাবাদ জেলায় বিজেপির সংগঠন তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন গৌরীশংকর ঘোষ। একসময় তিনি বিজেপির জেলা সভাপতি দায়িত্বও পালন করেছেন। একুশের মতো এবারের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন গৌরীশংকর ঘোষ। তাই মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে বিজেপির মন্ত্রীসভায় জায়গা পাওয়ার প্রথম এবং প্রধান দাবিদার তিনি।
এছাড়াও বহরমপুর কেন্দ্র থেকে পরপর দু'বার বিজেপির প্রতীকে জয়ী কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী অধীর চৌধুরীকে হারানো সুব্রত মৈত্রও মন্ত্রীসভায় যাওয়ার অন্যতম দাবিদার। সূত্রের খবর, বিজেপির তরফ থেকে এই জেলার তপশিলি জাতি সম্প্রদায় ভুক্ত এক মহিলা বিধায়ককে মন্ত্রীসভায় স্থান দেওয়া হতে পারে।
তবে বিজেপির কোন কোন বিধায়ক মন্ত্রিসভায় স্থান পাবে সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র এবং রাজ্য নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই জানা যেতে পারে মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে কেউ বা কারা মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন।
বিজেপির একাধিক নেতা বলেন, "সংখ্যালঘু মানুষ অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলায় বিজেপি এবছর যে ফলাফল করেছে তাতে জেলার কার্যকর্তারা প্রচন্ড খুশি। জেলা থেকে যদি এক বা একাধিক বিধায়ক মন্ত্রীসভায় স্থান পায় তাহলে কার্যকর্তারা আরও খুশি হবেন। তবে শুধুমাত্র মন্ত্রীসভায় স্থান দিলে হবে না , কাজ করা যেতে পারে এমন দপ্তর আমাদের জেলার বিধায়কদেরকে দিতে হবে। মুর্শিদাবাদ জেলার প্রচুর যুবককে এখনও পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিন রাজ্যে কাজ করতে যেতে হয়। আমাদের আশা জেলা থেকে কেউ মন্ত্রী হলে তিনি বা তাঁরা সেই সমস্যা মেটানোর বিষয়ে নজর দেবেন।"
বিজেপির মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের বিধায়ক গৌরীশংকর ঘোষ বলেন, "রাজ্য মন্ত্রীসভায় কে বা কারা স্থান পাবেন পুরোটাই আমাদের দলের শীর্ষ নেতারা ঠিক করেন। আমাদের দল যা সিদ্ধান্ত নেবে বাকি বিধায়কেরা সেটা সসম্মানে মেনে নেবেন।"
















