আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার রাতে উত্তর চব্বিশ পরগনার মধ্যমগ্রামে হুলুস্থুল কাণ্ড। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যু ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। অত্যন্ত ষড়যন্ত্র করে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে। এমনটাই দাবি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ বিজেপী শিবিরের৷ ঘটনার পর শুভেন্দু অধিকারীর বাকি যাঁরা আপ্তসহায়ক আছেন তাঁদের জন্য জেলা পুলিশ সিকিউরিটির বন্দোবস্ত করা হল। 

শুভেন্দু অধিকারীর অন্যান্য ঘনিষ্ঠদের জন্যও কড়া সিকিউরিটির বন্দোবস্ত করা হচ্ছে, জানালেন পূর্ব মেদিনীপুর পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা।

বুধবার চন্দ্রনাথের খবর পেয়েই মধ্যমগ্রামে ছুটে গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বৃ্‌হস্পতিবার চন্দ্রনাথের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পরও সেখানে দেখা যায় দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে৷ তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও দুই বিজেপি সাংসদ ও অন্যান্য নেতারা৷ সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। চন্দ্রনাথের মৃত্যুকে 'ব্যক্তিগত ক্ষতি' বলে জানালেন তিনি। পাশাপাশি শুভেন্দুর দাবি, ভবানীপুরে না জিতলে চন্দ্রনাথকে এভাবে খুন হতে হত না। 

শুভেন্দু অধিকারী জানান, অত্যন্ত ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনা। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, স্থানীয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের সক্রিয় মদত ছাড়া এই ঘটনা ঘটানো অসম্ভব। 

শুভেন্দু জানিয়েছেন, এখন থেকে চন্দ্রনাথের স্ত্রী ও মেয়ের দায়িত্ব তাঁর৷ তিনি জানান, "এই ঘটনা সুপরিকল্পনা ছাড়া সম্ভব না। যেভাবে টার্গেট করা হয়েছে তাতে নিন্দা আর দুঃখপ্রকাশ করার ভাষা পাচ্ছিনা।" পাশাপাশি তিনি জানান, "ওঁর অপরাধ ছিল ওঁ শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক"। 

এ দিন নিহতের শোকার্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান বিজেপি প্রতিনিধিরা। তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত পাশে থাকার কথা বলেন তাঁরা। চন্দ্রনাথের পরিবারের দাবি, "অতি দ্রুত দোষীদের শাস্তি চাই"। 

একইসঙ্গে শুভেন্দু জানিয়েছেন, সিআইডি ও সিট তদন্ত করবে। ইতিমধ্যেই তদন্ত এগিয়েছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। ঘটনাস্থল থেকে চার কিলোমিটার দূরে একটি সন্দেহজনক বাইক উদ্ধার হয়েছে।
 
বিজেপি নেতৃত্বের হুঁশিয়ারি, অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা না করা হলে রাজ্যজুড়ে তীব্র আন্দোলন হবে। নিহত তরুণের রক্ত যেন বৃথা না যায়, এটাই এখন গেরুয়া শিবিরের প্রধান লক্ষ্য।