৭ কোটি শুক্রাণু চাই! চাহিদা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সঙ্গমের 'ম্যারাথন' রানির
নিজস্ব সংবাদদাতা
৭ মে ২০২৬ ১৮ : ১১
শেয়ার করুন
1
5
প্রকৃতির এক অদ্ভুত ও নৃশংস লীলাভূমি হল মৌচাক। নিজের কলোনির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে একটি কুমারী মৌমাছি রানি তার জীবনের শুরুতে যে ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেয়, তাকে জীববিজ্ঞানীরা একপ্রকার 'প্রজনন ম্যারাথন' হিসেবেই দেখছেন। আকাশের উচ্চতায় ড্রোনের (পুরুষ মৌমাছি) সঙ্গে রানির এই মিলন সফর বা 'নুপশিয়াল ফ্লাইট' শুধু রোমাঞ্চকর নয়, বরং এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।
2
5
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, রানি মৌমাছি তার এই একক উড়ানে প্রায় ৭০ থেকে ১০০ মিলিয়ন শুক্রাণু সংগ্রহ করে। এই বিশাল ভাণ্ডার জমা করতে তাকে ১০ থেকে ২০টি, এমনকি কখনও কখনও ৮০টি পুরুষ মৌমাছির সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হতে হয়। এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হল কলোনির ভেতরে জিনগত বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করা, যা মৌচাককে রোগব্যাধি এবং প্রতিকূল পরিবেশের হাত থেকে রক্ষা করে।
3
5
তবে এই মিলনের মূল্য পুরুষ মৌমাছিদের দিতে হয় নিজের জীবন দিয়ে। সঙ্গমের মুহূর্তেই ড্রোনের প্রজনন অঙ্গটি বিস্ফোরকভাবে তার দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রানির দেহে প্রবেশ করে। এই 'যৌন আত্মহনন' নিশ্চিত করে যে, শুক্রাণুর একটি বিশাল অংশ সরাসরি রানির ডিম্বনালীতে পৌঁছাবে। মিলনের কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পুরুষ মৌমাছিটি অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে মারা যায়।
4
5
মৌচাকে ফিরে আসার পর রানি সেই বিশাল সংগ্রহ থেকে বাছাই করা প্রায় ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন শুক্রাণু তার শরীরের 'স্পার্মাথিকা' নামক একটি বিশেষ অঙ্গে আজীবনের জন্য জমা করে রাখে। আশ্চর্যের বিষয় হল, এরপর সে আর কোনওদিন সঙ্গম করে না। রানি মৌমাছি দুই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে এবং প্রতিদিন হাজার হাজার ডিম পাড়ার সময় এই জমানো ভাণ্ডার থেকে সামান্য করে শুক্রাণু নিঃসরণ করে।
5
5
এই চরম প্রজনন পদ্ধতিটি আসলে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। যদি কোনও কারণে রানি পর্যাপ্ত শুক্রাণু সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয় বা তার কলোনিতে জিনগত বৈচিত্র্যের অভাব দেখা দেয়, তবে কর্মী মৌমাছিরা তাকে 'সুপারসিড' বা সরিয়ে দিয়ে নতুন রানি তৈরি করে। অর্থাৎ, মৌচাকের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর ম্যারাথনে রানির জয়লাভ করা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই।