আজকাল ওয়েবডেস্ক: জরায়ুর সমস্যা নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে চিকিৎসা চলছিল মহিলার৷ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রবিবার সকালে মহিলার অপারেশন করার পরামর্শ দিয়েছিল চিকিৎসক৷ অভিযোগ অপারেশন টেবিলে অপারেশন শুরু করে পেট কাটার পর তিনি পারবেন না বলে ফের পেট সেলাই করে দেন চিকিৎসক৷ এরপরেই মহিলার পরিবার চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ জানলেন থানায়৷ ঘটনাটি ঘটেছে বনগাঁ থানার একটি বেসরকারি নার্সিংহোম| অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম তমিশা পানিগ্রাহী৷ রোগীর নাম জয়শ্রী অধিকারী৷ গোপালনগর নতুন গ্রামের বাসিন্দা৷


জয়শ্রী দেবীর স্বামী সুরজিৎ অধিকারী জানিয়েছেন প্রায় দুমাস ধরে জরায়ুর সমস্যায় জয়শ্রী ভুগছিলেন। অপারেশন করে পেট কাটার পর চিকিৎসক তাদের জানান জরায়ু নাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে৷ ফলে এই অপারেশন তার পক্ষে করা সম্ভব নয়৷ তার অভিযোগ চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আগেই দেখেছেন। তাহলে কেন অপারেশন শুরু করলেন৷ পাশাপাশি আরও অভিযোগ স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও তাদের কোনও স্বাস্থ্য সাথীর সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়নি৷

সুরজিৎ অভিযোগ করে বলেন, আমরা গরীব মানুষ৷ ইতিমধ্যেই ৩০ হাজার টাকা খরচ করেছি৷ স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে কোনও সুবিধা দেয়নি৷ এখন পেট সেলাই করে দিয়ে বলছে অন্য কোথাও গিয়ে অপারেশন করাতে৷ আমরা কিভাবে পারব৷ চিকিৎসকের গাফিতির জন্য আমার স্ত্রী সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছে৷ ইতিমধ্যেই বনগাঁ থানায় তিনি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ৷

অভিযোগ অস্বীকার করেছে চিকিৎসক তমিশা পানিগ্রাহী বলেন, রিপোর্ট দেখে বোঝা যাচ্ছিল না জরায়ু মূত্রথলি খাদ্যনালী একসঙ্গে পেঁচিয়ে রয়েছে৷ বাড়ির লোক জানত কিন্তু সেটা বলেনি৷ অপারেশন শুরু করার পরে আমরা পরিস্থিতি দেখে একটি মেডিক্যাল টিম তৈরি করি। এরপর এই রোগীর জীবনহানির কথা ভেবে অপারেশন স্থগিত করি৷ অভিযোগ পেয়ে পুলিশ বিষয়টি স্বাস্থ্য দপ্তরে জানিয়েছে।