আজকাল ওয়েবডেস্ক: শেষমেশ রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের জটিলতা কাটতে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ আটকে থাকার পর রাজ্যের তিন বিশ্ববিদ্যালয় এ বার স্থায়ী উপাচার্য পেতে চলেছে। এই তালিকায় রয়েছে-উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, মৌলানা আবুল কালাম আজ়াদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ম্যাকাউট) এবং নেতাজি সুভাষ ওপেন ইউনিভার্সিটি (এনএসওইউ)।
দীর্ঘ দিন ধরে রাজ্যের ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগে ঘিরে জটিলতা চলছিল। রাজ্য সরকার এবং রাজ্যপালের উপাচার্য পদে চলছিল বিরোধ। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপেই শেষ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের চূড়ান্ত নাম অনুমোদন করা হয়েছে। বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি কে. ভি. বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চ এই সিলমোহর দিয়েছে।
শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ইউ ইউ ললিতের নেতৃত্বাধীন সার্চ-কাম-সিলেকশন কমিটি যে নামগুলি সুপারিশ করেছে, সেই তালিকা থেকেই উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ করতে হবে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে।
উল্লেখ্য, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ করা জটিলতার সূত্রপাত বহুদিন আগে থেকেই। ২০২৩ সালে এই নিয়ে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। পরে অচলাবস্থা কাটাতে ২০২৪ সালে আদালত প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ইউ ইউ ললিতের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী উপাচার্যের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। বাকি ছিল এই তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। গত মার্চ মাসে নিয়োগের ইন্টারভিউ শুরু হয়। সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় থাকা প্রারথিদের ইন্টারভিউয়ের জন্য ডেকে পাঠানো হয়। এ বাড় তাঁদের মধ্যে থেকেই বেছে নেওয়া হল স্থায়ী উপাচার্য। সেই মতো ম্যাকাউটের উপাচার্য তাপস চক্রবর্তী, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বৈপায়ন ভরদ্বাজ এবং নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিদ্যালয়ে রাজন চক্রবর্তী উপাচার্য পদে নিযুক্ত হবেন। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশের ফলে বহুদিনের প্রশাসনিক জট কাটবে এবং রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় স্থিতাবস্থা ফিরবে বলে মনে করছে শিক্ষক মহল।















