আজকাল ওয়েবডেস্ক: একেই বোধহয় বলে 'কিস্সা কুর্সি কা'! বাংলায় পালাবদলের পরে এবার চেয়ারেও পরিবর্তনের ছোঁয়া। রাজ্য়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেয়ারে বসতে নারাজ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই কারণেই এবার চেয়ারেরও হল স্থানবদল। বিধানসভায় সাধারণত মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে একটি নির্দিষ্ট আসন বরাদ্দ থাকে। যা বছরের পর বছর ধরে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ সেই নির্দিষ্ট আসনে বসতে নারাজ শুভেন্দু অধিকারী। 

বিধানসভা সূত্রের খবর, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ইচ্ছেতেই গত দেড় দশক ধরে বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কাঠের চেয়ারে বসতেন, সেটি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার ঘরে। প্রোটোকল অনুযায়ী, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ব্যবহৃত আসবাবপত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জাম প্রশাসনিক স্বার্থেই সরিয়ে নেওয়া হয়। যেহেতু তৃণমূল কংগ্রেস এখন বিরোধী আসনে, তাই তাঁদের পরিষদীয় দলের নেতার জন্যই এই চেয়ারটি বরাদ্দ করা হয়েছে। 

জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই শুভেন্দু অধিকারী বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন, তিনি পূর্ববর্তী মুখ্যমন্ত্রীর ব্যবহৃত চেয়ারটি ব্যবহার করবেন না। আর সেই কারণেই তাঁর জন্য মুখ্যমন্ত্রী কক্ষে অন্য় একটি চেয়ার ও আসবাবপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী কক্ষের বাইরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামফলক সরিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর নামাঙ্কিত নতুন নেমপ্লেটও বসানো হয়েছে। বিধানসভা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে নয়, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন এতদিন ধরে বিধানসভায় যে চেয়ারে বসতেন শুভেন্দু অধিকারী, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও সেই চেয়ারেই বসবেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত বিধানসভা নির্বাচনে নিজের খাসতালুক দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরাজয় এবং রাজ্যে বিজেপির ২০৭টি আসনে জয়লাভের পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে নানা সদর্থক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আপাতত নতুন সরকারের শপথের পর বিধানসভার অন্দরেও এখন সাজো সাজো রব। সেই সূত্রেই একদিকে যখন মমতার চেয়ার বিরোধী শিবিরের ঘরে ফিরে গেল, অন্যদিকে তখন শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বিধানসভার মুখ্যমন্ত্রী কক্ষে শুরু হল এক নতুন জমানার সূচনা।