আজকাল ওয়েবডেস্ক: মন্ত্রী হয়েই কাজে নেমে পড়লেন শিক্ষক ক্ষুদিরাম টুডু। মঙ্গলবারই বর্ধমানে নিজের অগ্রাধিকার জানিয়ে দিলেন তিনি। 'ফেক এসটি সার্টিফিকেট নির্মূল করব, অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধ করব' বর্ধমানে সাংবাদিক বৈঠক থেকে কড়া বার্তা দিলেন নবনিযুক্ত রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু।
তিনি অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ, সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা এবং আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। মঙ্গলবার নিজের বাসস্থান বর্ধমানের সাংগঠনিক জেলা বিজেপি কার্যালয়ে এসে সাংবাদিক বৈঠক করেন। উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি অভিজিৎ তাও।
শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী করে গঠিত মন্ত্রিসভায় পাঁচজন কেবিনেট মন্ত্রীর মধ্যে অন্যতম ক্ষুদিরাম টুডু এদিন বলেন, “আগামী দিনে আমার দপ্তরের কাজ ভালভাবে সম্পন্ন করতে চেষ্টা করব। সরকারের প্রতিটি দপ্তর মারফত আমরা উন্নয়ন করব।"
মন্ত্রী এদিন অভিযোগ করেন, “প্রায় ১৫ বছরে প্রচুর অ-আদিবাসী আদিবাসী হয়েছেন। দুয়ারে সরকারের নাম করে তৃণমূল সরকার যেভাবে মুড়ি মুড়কির মতো ফেক এসটি সার্টিফিকেট দিয়েছে, তা নির্মূল করব। এটাই আমার কাছে প্রথম চ্যালেঞ্জিং বিষয়।”
জঙ্গলমহলের আদিবাসীদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ওখানে এখনও পানীয় জলের ভীষণ সমস্যা, রাস্তাঘাটের সমস্যা এবং আদিবাসী হোস্টেলগুলো বিগত সরকার কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর আমি ব্যবস্থা করব, যাতে আদিবাসী ছেলেমেয়েরা বিনা পয়সায় হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করতে পারে।”
তিনি নিজের কর্মক্ষেত্র বর্ধমান বাণীপিট হাইস্কুলের সংলগ্ন ১২০ সিটের হোস্টেলের উদাহরণ দিয়ে বলেন, “এমন অনেক হোস্টেল খুব সুন্দরভাবে চালানোর ওপর বিশেষ নজর দেব।” রাঢ় অঞ্চলের আদিবাসীদের টাটা বা ঝাড়খণ্ডের দিকে পাড়ি জমানোর কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “নতুন সরকার গঠনের পর শিল্প স্থাপন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলবেন। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প হবে এবং এখানকার ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থান এখানেও হবে।”
সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা দপ্তর প্রসঙ্গে ক্ষুদিরাম টুডু স্পষ্ট বলেন, “বিগত দিনে বিভিন্ন অবৈধভাবে যেসব মাদ্রাসার কাজ চলছে, সেগুলো আমি বাতিল করে দেব।” সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন নিয়েও তিনি আশ্বাস দেন।
মন্ত্রী জানান, তাঁর বিধানসভার প্রায় ২০টি অঞ্চলে আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের প্রধান দাবি, পানীয় জল ও রাস্তাঘাট। তিনি বলেন, "আমি খুব শীঘ্রই প্রতিটি বাড়িতে পর্যাপ্ত জল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।" প্রসঙ্গক্রমে মন্ত্রী জানান, গতকাল অর্থাৎ সোমবার কেবিনেটে মহিলাদের জন্য প্রতিশ্রুত অন্নপূর্ণা ভান্ডার ১ জুন থেকে চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।















