আজকাল ওয়েবডেস্ক: তারাতলা দুর্ঘটনার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ দাবি করেছিলেন, যদি তদন্তে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি থাকে, তবে তাঁকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হোক।
একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, অভিযোগ এত গুরুতর হলে এখনও কেন গ্রেফতার করা হয়নি কলকাতার প্রাক্তন মেয়রকে। ফের একবার ফেসবুকে সেই প্রসঙ্গ তুলে ফিরহাদ হাকিমকেই নিশানা করলেন কুণাল ঘোষ।
কী লিখেছেন কুণাল? বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক ফেসবুকে লিখেছেন, ''আজ বিকেল পাঁচটায় পরীক্ষা। ( তারাতলা নিয়ে বিধানসভায় মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর প্রাক্তন মেয়রের সই সংক্রান্ত কড়া বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে-)
1) যদি আজ বিকেলে বালিশ-তৃণমূলের ডাকে ফিরহাদ হাকিম কিছু তৃণমূল কাউন্সিলরকে নিয়ে যান, তাহলে প্রমাণ হবে মুখ্যমন্ত্রী তারাতলা নথিতে মেয়রের সই বিধানসভায় দেখিয়েছিলেন শুধু চাপ তৈরির জন্য, যাতে তিনি চাটন-শিবিরে থাকেন, লোক জোগাড় করেন।
2) যদি ফিরহাদ গ্রেপ্তার হন, তাহলে প্রমাণ হবে মুখ্যমন্ত্রী বিবৃতি দিয়েছিলেন ন্যায়বিচারের স্বার্থে। কোনোরকম চাপের জন্য নয়।
কোনটা ঠিক, আজ বিকেলেই বোঝা যাবে।
ববিদার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো। উনি সিনিয়র। সই মানেই অপরাধ, সেটা বিশ্বাস করি না। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভার ভাষণ থেকেই প্রশ্নটা আসছে।'' (বানান অপরিবর্তীত)

প্রসঙ্গত, এর আগে কুণাল ঘোষ বলেছিলেন, ''তারাতলা কাণ্ড নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় যে বক্তব্য রেখেছেন, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।'' তাঁর দাবি, তদন্তে যাঁদের নাম উঠে এসেছে এবং যদি তাঁদের বিরুদ্ধে দায় বা অপরাধের প্রমাণ থাকে, তবে আইনের নিরিখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে একইসঙ্গে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট করেছিলেন, যদি কোনও অপরাধের প্রমাণ না থাকে, তাহলে শুধুমাত্র রাজনৈতিক মঞ্চ বা বিধানসভায় কারও নাম উল্লেখ করাও সমীচীন নয়। তাঁর কথায়, বিভিন্ন নথিতে অনেক সময় প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্বাক্ষর করতে হয়। তাই তদন্তের আগে কাউকে দোষী বা নির্দোষ বলা ঠিক হবে না। কিন্তু এবার সরাসরি ফিরহাদ হাকিমের নাম নিয়েই গ্রেপ্তারির মতো প্রসঙ্গও তুলে দিলেন কুণাল ঘোষ।
এদিকে, তারাতলা কাণ্ডে আরও একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৭। এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন বিহারের মুঙ্গেরের বাসিন্দা শিব চন্দ্র কুমার। তিনিও কর্মরত ছিলেন তারাতলার এই বহুতল গোডাউনে। ঘটনার পর তাঁকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। গত বুধবার ঘটনার পর থেকে তাঁর লড়াই চলছিল জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে। অবশেষে আজ তাঁর লড়াই শেষ হয়। শনিবার সকালে হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।















