আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক বিরল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এক যুবকের প্রাণ বাঁচালেন চিকিৎসকেরা। সাধারণত অসাবধানতাবশত গলায় বা খাবারের নালিতে কোনও  কিছু আটকে যাওয়ার ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু এবার ২৩ বছরের এক যুবকের মূত্রনালির ভেতর থেকে উদ্ধার হলো আস্ত দুটি চুল বাঁধার কাঁটা বা ‘হেয়ার পিন’। অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ এই অস্ত্রোপচারটি সফলভাবে সম্পন্ন করে সাহেব সরকার নামের ওই যুবককে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা।

মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা সাহেব দিনকয়েক আগে তীব্র শারীরিক কষ্ট নিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হন। তিনি জানান, কোনওভাবে ভুলবশত দুটি হেয়ার পিন তাঁর মূত্রনালির ভেতরে ঢুকে গেছে। এর ফলে তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন তিনি, বন্ধ হয়ে গিয়েছিল স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব হওয়াও। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের ইউরোলজি ও সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখেন, ওই পিন দুটি শরীরের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গভীর অংশে আটকে রয়েছে। বিশেষ করে মূত্রনালির ভেতরে থাকা অত্যন্ত সূক্ষ্ম স্নায়ুগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়ায় যন্ত্রণার তীব্রতা অনেক বেশি ছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চিকিৎসক অমিত বড়ুয়া এবং চিকিৎসক আশুতোষ কুমারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।

চিকিৎসকেরা রোগীকে অচেতন করে ‘থ্রি ও ক্লক ইনসিশন’ নামের একটি বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতিতে এই অস্ত্রোপচারটি করেন। এর মাধ্যমে নালির সবচেয়ে সরু অংশটিকে সামান্য চওড়া করে ভেতরের কাঁটা দুটিকে কোনও  ক্ষতি না করেই অক্ষত অবস্থায় বের করে আনা সম্ভব হয়। চিকিৎসকদের মতে, মূত্রনালির বাইরের অংশটি অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় সেখানে বাইরের কোনও  বস্তু আটকে গেলে তা থেকে দ্রুত মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারত, যা রোগীর প্রাণসংশয়ের কারণ হতে পারত। তবে চিকিৎসকদের তৎপরতায় যুবকটি এখন পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত। কিন্তু কীভাবে বা কোন পরিস্থিতিতে এই কাঁটা দুটি যুবকের শরীরের অতটা গভীরে প্রবেশ করল, সে বিষয়ে সাহেব বা তাঁর পরিবারের কেউ খোলসা করে কিছু বলতে চাননি।