আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থানার রতনপুর এলাকায় একটি বিখ্যাত স্বর্ণ বিপনীতে ডাকাতির ঘটনায় শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তবে এই মামলার তদন্ত করতে নেমে ইতিমধ্যে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার শীর্ষ আধিকারিকেরা আশাবাদী আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই মামলায়  বড় 'ব্রেকথ্রু' মিলতে পারে। 

জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার বেশ কয়েকটি টিম ইতিমধ্যে দুষ্কৃতীদের সন্ধানে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে  পুলিশ জানতে পেরেছে, বিখ্যাত ওই স্বর্ণ বিপণী থেকে সাড়ে পাঁচ কেজির বেশি সোনা, তিন লক্ষ টাকা নগদ এবং অন্য বেশ কিছু মূল্যবান জিনিস খোয়া গিয়েছে। 
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থানার রতনপুর এলাকায় এক মহিলা-সহ মোট ছ'জনের একটি ডাকাত দল ওই স্বর্ণ বিপনীতে হানা দেয়। 

ডাকাতির ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ  শুক্রবার সংবাদ মাধ্যমের হাতে এসে পৌঁছেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে এক মহিলা প্রথমে ক্রেতার ছদ্মবেশে দোকানে প্রবেশ করছেন। এরপর তার পেছন পেছন ডাকাত দলের অন্য সদস্যরা ঢুকে যায় এবং আগ্নেয়াস্ত্র বার করে মুহূর্তের মধ্যে দোকানের নিরাপত্তারক্ষীদের কব্জা করে ফেলে এবং সেখানে উপস্থিত বাকিদেরও ভয় দেখাতে শুরু করে। 

এরপর ওই ডাকাত দলের সদস্যরা তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগে সোনার গয়না ভরে ওই এলাকা থেকে দু'টি বাইকে করে চম্পট দেয় বলে জানা গিয়েছে। 

এই মামলার এক তদন্তকারী অধিকারিক জানান, ডাকাতির ঘটনার তদন্ত করতে নেমে আমরা একাধিক সূত্র পেয়েছি। ওই স্বর্ণ বিপনীতে যে নিরাপত্তারক্ষীরা ছিল, ডাকাত দল চলে যাওয়ার পরেও তারা প্রাণ ভয়ে বেশ কিছুক্ষণ দোকান থেকে বার হননি। দোকানের নিরাপত্তারক্ষীরা  বা অন্য কর্মচারীরা ডাকাত দল বেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার শুরু করলে ডাকাত দলের সদস্যরা কোনওমতেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারত না। কারণ দোকানটি যে এলাকায় অবস্থিত তার আশেপাশের প্রচুর অন্য দোকান রয়েছে এবং ডাকাতি চলার সময়ও ওই স্বর্ণ বিপণীর সামনে দিয়ে অনেক লোকজন যাতায়াত করছিলেন। 

তদন্তকারী ওই আধিকারিক আরও বলেন,যে দলটি ডাকাতি করতে এসেছিল তারা 'কাজে' বাধা পেলে খুন করে দেয়। ডাকাতি করতে আসা  দলের সদস্যরা দোকানে উপস্থিত ক্রেতা,কর্মচারী এবং দোকানের নিরাপত্তারক্ষীদের একাধিকবার  চিৎকার করে সে কথা জানিয়ে দিয়েছিল। সম্ভবত সেই কারণেই ডাকাত দল বেরিয়ে যাওয়ার পরও তাদেরকে কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেনি। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডাকাতি চলাকালীন ওই দলে থাকা মহিলা সদস্য বিপনী থেকে বার হয়ে কাছেই থাকা একটি টোটো ভাড়া করে ওই এলাকা ছেড়ে চলে যান। ডাকাতি শেষে ওই দলের পাঁচ সদস্য দু'টি মোটরসাইকেলে চেপে এলাকা ছাড়েন। ডাকাত দলের চলে যাওয়ার ভিডিও ফুটেজও ইতিমধ্যে পুলিশের হাতে এসেছে। 
 
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ডাকাতির ঘটনার পর তারা যে সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ এখনও পর্যন্ত পরীক্ষা করতে পেরেছেন তা দেখে পুলিশের অনুমান দলটির সম্ভবত ঝাড়খন্ড থেকে এসেছিল। পুলিশের ওই আধিকারিক বলেন, ডাকাত দলের প্রত্যেকের স্পষ্ট ছবি আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, দলটি ঝাড়খণ্ডের পাকুড় জেলার চাঁছকির কাছাকাছি একটি গোপন ডেরায় আশ্রয় নিয়েছে। যদিও পুলিশের অনুমান দলটির মহিলা সদস্য সম্ভবত অন্য কোথাও আশ্রয় নিয়েছে। পুলিশের বেশ কয়েকটি দল ইতিমধ্যে ঝাড়খন্ড এবং বিহারের উদেশ্যে রওনা হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তারা পাকুড়-সহ আরও কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে।