আজকাল ওয়েবডেস্ক: পূর্ব ঘোষণা মতোই শুক্রবার শক্তিপুর থানায় হাজিরা দিলেন না মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভা কেন্দ্রের 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানার পুলিশ হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে দু'টি পৃথক স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। হুমায়ুনের বিরুদ্ধে 'ঘৃণা ভাষণ','কু কথা' বলা পুলিশ আধিকারিকদের 'হুমকি' দেওয়া-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানার পুলিশ হুমায়ুন কবীরের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে নোটিশ দিয়ে দু'টি মামলায় ৩ এবং ৪ জুলাই যথাক্রমে শক্তিপুর এবং রেজিনগর থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
তবে পুলিশের নোটিশ পাওয়ার পরও বেপরোয়া হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, ৩ জুলাই শুক্রবার তিনি জুম্মার নামাজ পড়তে যাবেন। তাই সেদিন তাঁর পক্ষে শক্তিপুর থানায় হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয়।
প্রসঙ্গত শক্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অতনু দাস শনিবার রাতে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯২, ১৯৬(২১),১৯৭,(১)(সি), ২৯৬ (বি), ১৩২, ৩৫৬ (২ ),৩৫২ ৩৫৩ (২ ) এবং ৩৫১ (২) ধারায় একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছেন।
হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে পুলিশের তরফ থেকে দাঙ্গায় উস্কানি দেওয়া, দু'টি ভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা তৈরি করা, জাতীয় সংহতি নষ্টের চেষ্টা, সরকারি কর্মচারীকে আঘাত এবং কর্তব্যে বাধা দানের চেষ্টা, মানহানি ,উত্তেজনামূলক ভাষণ, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বহরমপুরের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে যে দু'টি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা হয়েছে তার কোনটিতেই তিনি জামিন নেবেন না। তাতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারও করতে পারে।
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, শুক্রবার বেলা সাড়ে এগারোটার সময় শক্তিপুর থানার তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে নওদার বিধায়কের হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হুমায়ুন কবীর থানায় উপস্থিত হননি।
শক্তিপুর থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে যে ধারায় মামলার রুজু হয়েছে তার মধ্যে একাধিক ধারা জামিন অযোগ্য। বিধায়কের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, থানায় না আসতে পারার কারণ হুমায়ুন কবীর লিখিতভাবে জানাননি।
সাংবাদিকদেরকে হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন শনিবার তিনি রেজিনগর থানায় তাঁকে পাঠানোর নোটিশের ভিত্তিতে হাজিরা দেবেন।
অন্যদিকে, শুক্রবার হুমায়ুনের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, একটি ইমেল পাঠিয়ে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে আগামী ২৫ তারিখের মধ্যে মাথা কেটে খুন করা হবে। হুমায়ুন দাবি করেছেন, গত কয়েকদিন ধরে তাঁকে ফোন করেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হুমকি ইমেলে লেখা রয়েছে, হুমায়ুনের প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের নির্মাণস্থলে বিস্ফোরণ হবে।















