আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল এক নতুন আইনি জটিলতা। এবার তাঁর নিজের নির্বাচনী এলাকার অত্যন্ত চর্চিত 'সেবাশ্রয়' স্বাস্থ্যশিবিরকে কেন্দ্র করে রুজু হল একটি ফৌজদারি মামলা। ডায়মন্ড হারবার থানায় অভিষেক ব্যানার্জি এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে এই এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই শিবিরের নামে কোনও  রকম প্রশাসনিক বৈধতা বা সরকারি অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্র চালানো হচ্ছিল, যা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে বড়সড় ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

রায়নগরের বাসিন্দা সুকদেব দাস নামের এক ব্যক্তি গত বুধবার ডায়মন্ড হারবার থানার দ্বারস্থ হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তথাকথিত 'ডায়মন্ড হারবার মডেল'-এর অংশ হিসেবে বিপুল অর্থ ব্যয় করে এই 'সেবাশ্রয় শিবির' চালু করেছিলেন অভিষেক ব্যানার্জি। এমনকি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও এই শিবিরের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। দাবি করা হয়েছিল, এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নিখরচায় উন্নত মানের চিকিৎসা পাবেন এবং এই উদ্যোগ নাকি গোটা রাজ্যকে আগামী দিনে পথ দেখাবে। কিন্তু নির্বাচন মিটতেই এই শিবিরের আসল রূপ এবং ভুরিভুরি অনিয়মের কথা সামনে আসতে শুরু করে।

অভিযোগকারী জানিয়েছেন, তিনি নিজে ওই ক্যাম্পে চিকিৎসা করাতে গিয়ে সুস্থ হওয়ার বদলে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর অভিযোগ, এই শিবিরগুলিতে এমন সমস্ত চিকিৎসকদের নিয়ে এসে রোগীদের প্রেসক্রিপশন লেখানো হয়েছে, যাদের এখনো প্র্যাকটিস করার বা ওষুধ লেখার কোনও  সরকারি এক্তিয়ার বা অনুমতিই নেই। ইন্টার্ন এবং চিকিৎসাপড়ুয়াদের দিয়ে এখানে বেআইনিভাবে চিকিৎসা করানো হয়েছে, যাদের মধ্যে ডায়মন্ড হারবার মেডিকেল কলেজের 'থ্রেট কালচার'-এ অভিযুক্ত বেশ কিছু পড়ুয়ারাও ছিলেন। শুধু তাই নয়, সরকারি হাসপাতালের ওষুধ বেআইনিভাবে এই সেবাশ্রয় শিবিরে ব্যবহার করার পাশাপাশি ক্যাম্পের কাছাকাছি একটি ভ্যাট থেকে প্রচুর পরিমাণে ওষুধ ফেলে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

সবচেয়ে মারাত্মক যে অভিযোগটি আনা হয়েছে তা হল, এই শিবিরে আল্ট্রাসোনোগ্রাফির (USG) মতো বেশ কিছু এমন চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছিল যা তেজস্ক্রিয় পদার্থ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এই ধরনের স্পর্শকাতর যন্ত্রপাতি ব্যবহারের জন্য পরমাণু শক্তি বা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের  যে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়, তা একেবারেই নেওয়া হয়নি। কোনও রকম সুরক্ষা বিধি না মেনে তেজস্ক্রিয় যন্ত্রপাতির এই যথেচ্ছ ব্যবহার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এটি সরাসরি দেশের পরমাণু শক্তি আইনের পরিপন্থী।

বৃহস্পতিবার এই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। অভিষেক ব্যানার্জির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, জালিয়াতি, প্রতারণা এবং সরকারি বিশ্বাসভঙ্গের মতোভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এর পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তি আইনের ১৭ নম্বর ধারা, ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্ট, পিসিপিএনডিটি (PCPNDT) অ্যাক্ট, এনএমসি (NMC) অ্যাক্ট এবং অনুমোদনহীন চিকিৎসাকেন্দ্র চালানোর অপরাধে ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্টের তিনটি ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। এই সংবেদনশীল মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছে ডায়মন্ড হারবারের এসডিপিও (SDPO)-র নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ তদন্তকারী দলকে।